মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের অসাধু কর্মচারীর মাধ্যমে দামী ঔষধ ফার্মেসীতে সরবরাহ করে বলে অভিযোগসহ গ্রেফতার পুলিশের অভিযান অব্যাহত। অবৈধভাবে বিক্রি করা সরকারি ঔষধ মিলেছে ফার্মেসীতে। সরকারি হাসপাতালের বিক্রি হয়ে যাওয়া ঔষধের তালিকায় মিলছে, সেফ্রাডিন-৫০০ মিলি, এজিথ্রোমাইসিন-৫০০, সিপ্রোফ্লক্সিন-৫০০ মিলিসহ বিভিন্ন ইঞ্জেকশন ও খাবার স্যালাইন এবং অপরাশনের যাবতীয় ।
সদর উপজেলার বাড়িবাকা গ্রামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতাল গেটে ধরা হলেউ টনক নড়েনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দ পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধসহ ঈষান-ইমন ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী বাবর আলী নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। তারপরও থেমেনেই সরকারি ঔষধের অবৈধ চালান ফার্মেসীতে। এই ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন ভূক্তভোগী অনেকেই। হাসপাতাল থেকে ঔষধ চুরির কথা স্বীকারও করেছে কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশনা করার শর্তে কয়েকজন ফার্মেসীর সহযোগী বিক্রেতা জানান, হাসপাতালে যারা ঔষধের দায়িত্বে থাকে তাদের অনৈতক সুবিধা দিয়ে বেশ কিছু ফার্মেসি মালিক কম দামে সরকারি দামি দামি এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের ঔষধ কিনে নিয়ে নিজেদের ফার্সেসীতে বিক্রী করে।
পেটের পীড়ায় হাসপাতালে গিয়েও এজিথ্রোমাইসিন এন্টিবায়োটিকের সরবরাহ নেই বলে ফামের্সীতে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয় রমজান আলী নামের এক রোগীকে। রমজান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি হাসপাতাল থেকে ঔষধ পাইনি। অথচ সরকারি সিল সম্বলিত এজিথ্রোমাইসন পাওয়া যাচ্ছে ফার্মেসীতে। যার প্রতি পিচ মূল্য ৩৫ টাকা। সরকারি ঔষধ কীভাবে বাইরে যাচ্ছে এই প্রশ্ন অনেকের। অনুসন্ধানে জানা গেছে হাসপাতালের বড়বাবু সেই পীরের নাম। কয়দিন আগে দৈনিক এই আমার দেশের গাংনী প্রতিনিধি স্বপন আলী তথ্য সংগ্রহ করার সময় বড় বাবু গুলি করে ভুড়িবের করেদেবো এবং তার ছেলে জবায় করে ফেলার হুমকি দিলে থানায় অভিযোগ দায়ের করাহয় এবং দৈনিক এই আমার দেশে হাবিবুর রহমান হাবিব এর হুমকি নিউজ প্রকাশিত হ‌য় । তার কিছু দিন পরেই এই ঘটনা অন্যদিকে মোড় দিতে জড়িয়ে দেওয়া হয় কিছু নার্স ও বিনা বেতনে চাকরি করা কিছু পরিছন্ন কর্মীদের। দায় দেওয়া হয় ঔষধ চুরির। বলা হয় এর জন্য দায়ী তারা । এই বিষয়ে হাসপাতালের স্টোর কিপার পলিয়ারা খাতুন বলেন, হাসপাতালের কোনো ঔষুধ আমার মাধ্যমে বাইরে যায় না। এটা হাসপাতালের কিছু দালাল চক্র আছে তারা টিকেট কেটে অতিরিক্ত ঔষধ নিয়ে বিভিন্ন ফামের্সিতে বিক্রী করে। নিয়ম তাবলছেনা হাসপাতালে টিকিট কেটে ঔষধ তো দূরের কথা স্যালাইন পাওয়া সম্ভব না, যতখোন না ডাক্তারের সাক্ষর সিলসহ ঔষধ লিখবে অথচ এহেন গল্প বানিয়ে স্টর কিপার পলি আরা এড়িয়ে গেলেন প্রশ্ন। হাসপাতালে ডিউটিরত ডাক্তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বললেন হাসপাতাল থেকে সরকারি ঔষধ গায়েব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন সেই সাথে বলেন সাধারণ কর্মচারী কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছেন। তাদের কাছে জানতে চান বলে আঙ্গুল তুললেন সেই বড় বাবু হাবিবুর রহমান এবং স্টর কিপার পলি আরার দিকে। এই ব্যাপারে দৈনিক এই আমার দেশ, তত্ত্বাবধায়ক জমির মোহাম্মদ হাসিবুস সাত্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের কর্মচারীর মাধ্যমে সরকারি ঔষধ অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ও প্রভবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা পুরো হাসপাতাল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টোরে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা সম্পন্ন হলে তদারকি বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে সরকারি ঔষধসহ বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়ম অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন করেন ।