মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
মোর বাবার কি অপরাধ, মুই বাবাক চাং। মোর সোনা বাবা রে, মোর বাবাক টুকরা টুকরা করছে, মুই ওমার ফাঁসী চাং। মোর বাবার কি অপরাধ? এভাবেই আর্তনাদ আর চিৎকার করে কান্না ভেঙ্গে পরছেন নিহত মিন্টু চন্দ্রের মা ত্রিবিনি বালা (৬২)।সরেজমিনে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াই পাড়া গ্রামে মিন্টু চন্দ্রের বাড়িতে গেলে নিহত মিন্টু পরিবারে চলছে শোকেন মাতম। ছোট ভাই বাড়ির আঙ্গিনায় মাটিতে পড়ে দাদার জন্য গড়াগড়ি দিচ্চি। বাড়ির সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এ সময় মিন্টুর মা ত্রিবিনি বালার সাথে কথা হলে তিনি আরও বলেন, মোর বাবা ইদের ৭ দিন আগত মোর সাথে কথা কইছে। এবার ইদত বাড়ি আসলে মোর জন্য শাড়ী আনবে। ছেলেকে হারিয়ে বাবা সরদ চন্দ্র বর্মন নির্বাক হয়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। শুধু নির্বাক হয়ে চেয়ে দেখছেন।জানা গেছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াই পাড়া গ্রামের সরদ চন্দ্র বর্মনের ছেলে মিন্টু চন্দ্র। মা ত্রিবিনি। ৫ ভাইর মধ্যে বড় মিন্টু। অনেক কষ্টের সংসার। বর্তমানে জায়গা জমি বলতে কিছুই নাই। অন্যনের জমি চাষ আবাদ করে চলছে তাদের সংসার। গত ১০ বছর আগে বাবার ৮ বিঘা জমি বিক্রি করে ঢাকায় যান চাকুরির জন্য। সেখানে প্রতারনার শিকার হয়ে এক বছর পর বাড়িতে এসে আবারও ঢাকায় চলে আসেন। এর পর ঢাকা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় টিউশুনি শুরু করেন। এর পর গাইবান্ধার রবিউল ইসলাম ও মোতালেব মিলে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ।মিন্টু চন্দ্র বর্মণ হাতীবান্ধা এস.এস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করেন হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি।পরে রংপুর কারমাইকেল থেকে অনার্স শেষ করেন।মিন্টু চন্দ্রের কাকাতো বোন অঞ্জলী রানী বলেন,বড় চাকুরি দিবে বলে বাপের জমি সাত আট দোন জমি বিক্রি করি ওই ঢাকার লোক খেয়া নিছে এর পর ভুয়া ভিসা দিয়া বিদেশ পাঠে দিও সে ফিরত আসছে। তিনি আরও বলে, মোর দাদার হত্যাকারীর ফাঁসী চাং। মোর দাদাক ছয় টুকরা করছে তাদেরও যেন ছয় টুকরা করা হয়।উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন চারতলা এলাকার নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এর পর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৯ দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। গত ২৮দিন পর সোমবার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বেরন এলাকার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়।