এথিনা আক্তার, টাঙ্গাইল সদর প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ডিস্টিক্ট গেইট এলাকাটি ময়লার এক দূর্গন্ধযুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ এবং স্হানটি যেন এলাকাবাসীর কাছে নরক যন্ত্রণার সামিল।

বছরের পর বছর শহরবাসীর পরিত্যক্ত সকল ময়লা এবং আশেপাশের বাজারের সমস্ত নোংরা ফেলার একমাত্র স্থান হিসেবে কর্তৃপক্ষ ঐ স্থানটিকে ব্যবহার করে আসছে। শহরের বিভিন্ন মোড়গুলোর সমস্ত ময়লা এনে জমা করা হচ্ছ এই আবর্জনার স্তূপে। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি একই সঙ্গে বেড়ে যায় মশা মাছির উপদ্রব। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করায় এসব আবর্জনা পঁচে এবং উপচে পড়ে উদ্ভট দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে ফলে বায়ু দূষণের ঝুকিতে বসবাস করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বাসিন্দাদের কাছে এ সড়কটি ব্যবহার করে চলাচল যেন জীবনের উপর নেওয়া এক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের বসবাস। শহর থেকে অনেক দূরে আবর্জনা ফেলে আসার নিয়ম হলেও নিয়মিত ও সঠিক সময়ে আবর্জনার স্তুপ সরানোর কোম উদ্দ্যোগ কখনোই নেয়নি এবং নিচ্ছেনও না পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরের অনেকেই এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সরব এবং অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বরাবরের মতোই কিন্তু দেখার আর শোনার মতো যেন কেউ নেই। শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এলাকা ডিস্টিক্ট গেইট এর প্রধান সড়কের উপর দির্ঘদিন যাবৎ পড়ে আছে নোংরা-পঁচা আবর্জনার স্তুপ। এই জায়গাটির পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রয়েছে জর্জ কোর্ট, শিল্পকলা একাডেমি এমনকি সদর হসপিটাল বা শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আশেপাশের বাজার ও হোটেলের আবর্জনাগুলো এনে সযত্নে ফেলে রাখা হয় শহরের প্রধান এই সড়কটির উপরেই। এর ফলে পথচারীরা শিকার হচ্ছে বিকট দুর্গন্ধের। প্রত্যেককেই রাস্তা পার হতে হচ্ছে নাকে ও মুখে কাপড় দিয়ে বা হাত দিয়ে চেপে ধরে। এতে প্রতিনিয়ত চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। শিশু বা বয়স্কদের জন্য এ স্থানটি যেন পরিণত হয়েছে এক মরন ফাঁদে।

নগরবাসীর অভিযোগ, এভাবেই আবর্জনার সাথে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। পৌর কর্তৃপক্ষ বা নগরকর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথা ব্যাথা কিংবা দায় নেই এ বিষয়টিতে। এ নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে ক্রমে চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা যেন দানা বেধেঁ উঠছে। প্রশ্ন একটাই, নগরবাসীর ভোগান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার বা শোনার আসলেই কি কেউ নেই!