উৎপল ঘোষ, (ক্রাইম রিপোর্টার) যশোরঃ যশোর অভয়নগর উপজেলায় সম্ভাবনাময় উঠতি যুবকের মাদকে রাহু গ্রাসে শিকার। কুড়ে কড়ে খাচ্ছে তাদের জীবন। মাদকের অর্থ জোগাড়ে নৈতিক অবক্ষয় যুবকেরা এখন চুরির নেশায় নেমেছে। প্রায় প্রতি রাতে মুদির দোকান, মসজিদ ও বিভিন্ন বাজার থেকে অসংখ্য সাইকেল চুরি,ছোট খাটো মোবাইল,টাচ মোবাইল,হাস-মুরগী,স্বর্ণের চেইন,আংটি,কানের দুল,শাড়ি,নগদ টাকা সহ নানা জিনিস।

তথ‍্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক সেবীরা চুরি,ডাকাতির পাশাপাশি ছিনতাই চাঁদাবাজি করছে।পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে মাদক বিক্রেতা ও খোরদের আনাগোনা রয়েছে। পৌরসভাসহ উত্তরে প্রেমবাগ ইউপি থেকে শুরু  করে সুন্দলী, পায়রা, চলিশিয়া ও ভৈরব নদীর পূর্ব জনপদের শ্রীধরপুর,বাঘুটিয়া,শুভরাড়া ও সিদ্দিপাশা ইউপিতে মাদক খোরদের সংখ‍্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে উপায়হীন অভিভাবকেরা হতাশার মধ্যে রয়েছেন।প্রেমবাগ বাজার সংলগ্ন,ভাঙ্গাগেট ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন,নওয়াপাড়া জুট মিলের উত্তর পাশে ফুটবল খেলার মাঠের পাশে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব‍্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অনুরুপ অভিযোগ চলিশিয়া ও পায়রা বাজারে।মধ‍্যপুর খেয়াঘাট,শংকরপাশা গ্রামের বিলপাড় এলাকার গাঁজা ব‍্যবসায়ী আকাম শেখের ছেলে সেলিম শেখ,মৃত গণি মোল্লার ছেলে উকিল ও উকিল মোল্লার ছেলে ইকতারুল।

শংকরপাশা বাজার খেয়াঘাট, নুরবাগ কাঁচা বাজার এলাকা,ফেরিঘাট,বাঘুটিয়া নিমতলা বাজার মোড় এলাকা যেখানে সংখ‍্যা লঘু সম্প্রদায়ের বসবাস।গভীর রাত পর্যন্ত মাদক সেবিদের আনাগোনা মাতলামি সহ মারপিটের ঘটনা ঘটার অভিযোগ রয়েছে।ঐ এলাকায় প্রায় এক মাসে কমপক্ষে ১০টি চুরির ঘটনা ঘটছে।২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রায় তিনটার দিকে নারকেল ব‍্যবসায়ির বাড়ি থেকে সাইকেল,টাচ মোবাইল ও শ্রমের ১৫ শ’ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।সিংগাড়ি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলছে গাঁজার ব‍্যবসা।স্থানীয় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও জামিনে তারা বেরিয়ে এসে আবার পুরাতন ব‍্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভাটপাড়া গ্রাম থেকে মোবাইল,সাইকেল চুরি, পাইকপাড়া গ্রামে বিছালি গাঁদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।মাদকসহ আটকের পর বিগত দিনে অনেককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির উপর।আলোচিত ইউনিয়নে মাদকের ক্রয়ের অর্থ যোগান দিতে তারা প্রায় প্রতি রাতে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে নামী দামী মোবাইল সাইকেল সহ নানা জিনিস।অভিযুক্তরা সবাই পুলিশের লিষ্টেট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  একাধিক ব‍্যক্তি বলেছেন, পুলিশ সৎ ইচ্ছা করলেই মাদক বিক্রেতা ও খোর নির্মুল করতে পারে। সমাজের সচেতন মহল ও অভিভাবক মহল পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।