উৎপল ঘোষ, (ক্রাইম রিপোর্টার) যশোর: যশোর পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক ও ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সময়মতো অপসারণ না করার কারণে তা বর্ষায় পচে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে।

ব্রিটিশ ভারতের প্রথম যশোর পৌরসভার এলাকা প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটার। যেখানে বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা রাখার জন্যে রয়েছে ২১৭টি প্লাস্টিকের ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন। রয়েছে ৯০টি কন্টেইনার ডাস্টবিন। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের জন্যে রয়েছে ৩৬টি গার্বেজভ্যান এবং ৮০টি হ্যান্ডট্রলি। ডাস্টবিনগুলোর ময়লা আবর্জনা ঝুমঝুমপুরে ময়লা শোধনাগারে অপসারণের জন্য রয়েছে ১০টি গার্বেজট্রাক ও ৪টি খোলা ট্রাক। প্রতিদিন দুই শিফটে এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৫৫০ জন শ্রমিক। বিশাল জনবল, গাড়িবহর থাকতেও ময়লা ও আবর্জনা সময়মতো অপসারিত হচ্ছে না। ফলে পচা উদ্ভট দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীর।

যশোরপৌরসভার কালেক্টরেট আদালত ভবন, গাড়িখানা, দড়াটানার এলাকা পরিষ্কার থাকলেও পাড়া মহল্লার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে শহরের মনিহার এলাকার চিত্র। বিজয় স্মৃতি স্তম্ভের পাশে রাখা ডাস্টবিনের মযলা আবর্জনা ছাপিয়ে বিরাট একটি অংশ দখল করে আছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি যশোর শহরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে ডাস্টবিন ছাপিয়ে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা নিয়ে গরু ও কুকুরে টানাটানি করে।অন্যদিকে, যানবাহনের ঢাকায় পিষ্ট হয়ে সেটি চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। বর্ষার পানিতে এই ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
মনিহার এলাকার মতো এমন দৃশ্য চোখে পড়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পাশে রাখা কন্টেইনার ডাস্টবিনে। যার পাশ দিয়ে নার্সিং ইনস্টিটিউটে মানুষ করোনার টিকা নিতে যান।

একই দৃশ্য চোখে পড়ে জেল রোড বেলতলা, ঘোপ, বড়বাজার, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, রেলবাজার, চাঁচড়া তেঁতুলতলা, কারবালা রোডসহ বিভিন্ন স্থানে। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গৃহস্থলি এবং দোকানপাটের ফেলা ময়লা-আবর্জনা। শহরের খড়কি, রায়পাড়া, চোরমারা দিঘির পাড়, শংকরপুর বেজপাড়া, বারান্দীপাড়াসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। আবার অধিকাংশ পাড়া-মহল্লায় নেই পৌরসভার ডাস্টবিন। অনেক স্থানে বিভিন্ন সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ করা হয় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

আবার অনেক জায়গায় ডাস্টবিন না থাকায় মানুষ যত্রতত্র মংলা-আবর্জনা ফেলেন। যা মাসের পর মাস অপসারণ করা হয় না। শহরের রেলবাজার কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষক আসাদুজ্জামান এর কথা হয়। তিনি বলেন, স্টেশনের পাশে রাস্তার ওপর যে কন্টেইনার ডাস্টবিন রয়েছে তার ময়লা নিয়মিত অপসারিত হয় না। বাজারের ময়লা আবর্জনা ভরে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকে। এমন দৃশ্য প্রায় প্রতিদিন দেখতে হয় এবং পচা দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়।

খড়কি হাজামপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, কাছে কোনো ডাস্টবিন না থাকার কারণে ফাঁকা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হয়। পৌরসভায় জানালেও মাসের পর মাসেও এই ময়লা অপসারিত হয় না। এ বিষয়ে পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, ডাস্টবিনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ নেই। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে বসানো প্লাস্টিকের ডাস্টবিনগুলো গরুতে ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। আবার অনেক পাড়া-মহল্লায় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। সেখানে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলা হলেও অনেকে অনির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলেন। যে কারণে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ৯০টি কন্টেইনার ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।