নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার (১৪ নভেম্বর, ২০২০) বিকেলে যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হস্তান্তর করেন।

যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের এক বছরের মাথায় সংগঠনটির যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে নতুন মুখ দেখা গেছে। ফলে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে আলোচিত সংগঠনটির নতুন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন অনেকেই।

যারা এসব পদে এসেছেন তাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এই কমিটিতে আছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, আওয়ামী লীগ বিটের সাংবাদিকদের চোখে ‘ক্লিন ইমেজে’র এমপি নবী নেওয়াজ, জনসাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার আইনজীবী সৈয়দ সাইদুল হক সুমন। আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনও সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান পেয়েছেন।

প্রথমবার যুবলীগের কমিটিতে এসে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম হয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ব্যারিস্টার সুমন পেয়েছেন আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব।

বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শেখ ফজলে সামস পরশের যুবলীগের নেতৃত্বে আসার মধ্য দিয়েই মূলত সংগঠনটির নতুন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন অনেকে।

২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলনে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ ফজলে সামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল; এর এক বছর পর সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হল।

শনিবার যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ এ কমিটির অনুমোদন দেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই দিনে যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হস্তান্তর করেন।

সাত বছর পর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ নভেম্বর,২০১৯) সকাল ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলী ও যুগ্ম সম্পাদকের পদগুলোতে বয়োজ্যেষ্ঠদের রাখা হলেও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য সম্পাদকের পদগুলোতে তুলনামূলক নবীনরাই ঠাঁই পেয়েছেন।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ এবারই প্রথম যুবলীগে এসে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মতো এবারই প্রথম যুবলীগের কমিটিতে এসে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. সোহেল পারভেজ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মশিউর রহমান চপলও এবারই কমিটিতে এসে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

অন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে কাজী মাজহারুল ইসলাম আগের কমিটির উপসম্পাদক ছিলেন। তার আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসেন। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিনও বিগত কমিটিতে উপসম্পাদক ছিলেন। তিনিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। বিগত কমিটির উপসম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।

প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র জয়দেবও এবারই প্রথম যুবলীগের কমিটিতে এসেছেন।

২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলনে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ ফজলে সামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল; এর এক বছর পর সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হল।দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ বিগত কমিটিতেও ছিলেন। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

ফজলে ফাহিম, অধ্যক্ষ নবী নেওয়াজ ও নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীতে আছেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মনজুর আলম শাহীন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, শেখ সোহেল উদ্দিন, ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, মো. এনামুল হক খান, সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, মৃণাল কান্তি জোয়ার্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, জুয়েল আরেং, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন ও এন শাহাদাত হোসনে তাসলিম।

যুবলীগের যৌবন আবার ফেরানো যাবে কি?

শেখ ফজলে নাঈমের সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মো. বদিউল আলম ও মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাকি তিনজন হলেন- মো. জহির উদ্দিন খসরু, আবু মুনির মো. শহিদুল হক রাসেল ও অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির।

অন্য সম্পাদকের পদগুলোর মধ্যে গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. শাহদাত হোসেন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান রাজিব, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. মো. শামীম খান, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) বিষয়ক সম্পাদক মো. শামসুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. ফরিদ রায়হান।

তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দিন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শাহীন মালুম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরী পারভেজ, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হ্যারিস মিয়া শেখ সাগর, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল হাই, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাও. খলিলুর রহমান সরদার এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাড. মুক্তা আক্তার।