রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের প্রথম দিনেই চনম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ধর্মঘটের কারণে রোববার (০১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীর কোন পেট্রোল পাম্প থেকে আর জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি তেল না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন বিপাকে। যারা ধর্মঘটের খবরে আগাম জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছিলেন তারাই কেবল আজ মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন।

রোববার সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় থাকা আলম ফিলিং স্টেশনের সেলসম্যান মুরাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ ভোর ৬টা থেকে তারা ধর্মঘটে গেছেন। এই কারণে সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশন থেকে আর কাউকে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সেলসম্যান মুরাদ হোসেন।

অপরদিকে মহানগরীর কুমারপাড়ায় থাকা গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মিলন সরকার বলেন, ধর্মঘটের খবর ফলাওভাবে প্রচার হয় নি। তাই আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। যে কারণে সকালে পেট্রোল পাম্পে আসেন পেট্রোল নেওয়ার জন্য। কিন্তু পেট্রোল পাম্পে এসে দেখেন দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জ্বালানি তেল বিক্রি। ফলে হঠাৎ করেই চরম দূর্ভোগে পড়েছেন তিনি। এমন অবস্থায় খোলা বাজারেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মিলছে না।

কেবল মিলন সরকার নন, তার মত অনেকেই আজ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট যানবাহন মা মালিকরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই যানবাহন চালাতে পারছেন না। আর এ কারণে রোববার সকাল থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমে এসেছে।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন এবং ট্যাংকলরি ভাড়া বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম অনিন্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনিন্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক পাঁচ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশী হয়রানি বন্ধ, সুনিন্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপƒর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উল্লেখিত দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শুধু মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পেট্রোল পাম্প পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ এ খাতটি এরই মধ্যে অলাভজনক হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই তারা চূড়ান্ত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।