রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ঘোষণা অনুযায়ী একজন এক ক্রেতা কেজির বেশি পেঁয়াজ পাবেনা। কিন্তু তার পেরও বাজারে এক কেজির ১০০ গ্রাম করে বিক্রি করতে দেখা গেছে টিসিবির ডিলারদের। পেঁয়াজে গুলো বড় বড় থাকার কারণে এক কেজির অনুপাতে ওজন না মেলাতে পারার কারণে এক কেজি ১০০ গ্রাম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পঁয়াজ। ঘোষণা অনুযায়ী ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ দরে বিক্রিয় করা হবে। নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে। ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ ১ কেজি ১০০ গ্রাম দাম পড়বে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে ক্রেতাদের কাছে থেকে রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা। এত করে যেমন ডিলারা লাভোবান হচ্ছে ঠিক তেমনি প্রতিদিন পাঁচটি পয়েন্ট থেকে ৫০০ জন গ্রাহকগণও বঞ্চিতি হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগরীর সরেজমিনে ঘুরে দেখাা যায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, কোর্ট এলাকা, ভদ্রা মোড়, রেলগেট ও আমচত্বর এলাকায় টিসিবির নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। দেখা গেছে প্রতিটি স্থানেই লম্বা লাইন ধরে কিনছে পেঁয়াজ। দীর্ঘ লম্বা লাইনে দাড়িয়ে পেঁয়াজ কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। সকাল ১০টার থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রি শুরু হলেও অনেক আগে থেকেই লাইনে দাঁড়ায় ক্রেতারা।

নরগীর বিভিন্ন পয়েন্টে পেঁয়াজ কিনতে দাড়িয়েছে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের লোকজন। পুলিশের পাহারায় খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। শনিবার থেকে পেঁয়াজে বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পেঁয়াজ না পৌঁছানোর কারণে গতকাল রোববার সকাল থেকে পুলিশি পাহারায় বিক্রি শুরু করে টিসিবি। খোলা বাজারে বিক্রি শুরুর প্রথম দিন থেকেই লম্বা লাইন ধরে পেঁয়াজ কিনছেন ক্রেতারা। তবে ক্রেতারা জানান আরও কয়েকটি পয়েন্টে বিক্রি বাড়ানোর দরকার।

এদিকে খোলা বাজারে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলেও এক কেজির অনুপাতে ওজন না মেলাতে পারার কারণে এক কেজি ১০০ গ্রাম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এতে করে ১০০০ জনকে পেঁয়াজ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে থেকে ১০০ জন হলে এবই ভাবে পাঁচটি পয়েন্টে ৫০০ জন ক্রেতা বঞ্চিতি পেঁয়াজ পচ্ছেন না তারা। আবার ৫০ পয়সা করে বেশি লাভও হচ্ছে ডিলারদের।

নগরী রেলগেট এলাকায় পেঁয়াজ কিনতে এসছেন ৭০ বছরের ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, সকালে হাটতে এসে শুনি যে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হবে। লাইনে দাড়িয়ে তাই এক কেজি ১০০ গ্রাম পেয়াজ কিনে নিলাম ৫০ টাকায়।

সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন কৃষিবিদ মুরাদ আলী। তিনি বলেন, এটিতে আমাদের খুব উপকার হবে। তবে এখানে ১ কেজি দেবার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১ কেজি ১০০ গ্রাম। এতে অন্য গ্রাহকগণ কম পাবেন।

রাজশাহীর সাহেব বাজারে টিসিবির ডিলার মেসার্স উমা ইন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তাক অহম্মেদ বলেন, আমাদের পেঁয়াজের সাইজ বড়। এটির মাপ মিলাতে কষ্ট হচ্ছিলো। তাই এক কেজি ১০০ গামে করে বিক্রি করছিলাম। পরে ক্রেতাদের অভিযোগের পর আমার এটি কেটে ১ কেজি পুরোণ করেই বিক্রি শুরু করি।

টিসিবির রাজশাহী কার্যালয়ের আঞ্চলিক প্রধান প্রতাপ কুমার জানান, পেঁয়াজ বড় হবার কারণেই এটি সমস্যা হয়েছে। এখন এটি কাটলে মিলাতে ওজনে হবে। আগমীকাল থেকে এ বিষরে প্রয়োজনীয় ভাবনা ভেবে ডিলারদের নির্দেশনা দিবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে টিসিবি প্রতিদিন সরবরাহ করবে পাঁচ টন পেঁয়াজ। প্রতিপয়েন্টে দেওয়া হবে এক টন করে। দেশে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আপাতত রাজশাহীর পাঁচটি পয়েন্টে বিক্রি করা হচ্ছে। সম্ভব হলে পরে আরও বিক্রি পয়েন্ট বাড়ানো হবে।