ইব্রাহিম আলম সবুজ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ মানব কল্যাণ একটি মহৎ কাজ। আমিরাতের কথা চিন্তা করে সদকায়ে জারীয়াহ্ হিসেবে  অত্র জেলার দুঃস্থ, অসহায় এতিম বালিকা শিশুদের প্রতিপালন, সু-শিক্ষাসহ চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মানব সম্পদে পরিনত করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় হরিশ্বর তালুক গ্রামে  জনাব আলহাজ্ব মুহাঃ আব্দুস ছাত্তার সরদার সাহেবের উদ্দ্যোগে এবং জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান খন্দকার সাহেব কর্তৃক দানপত্র কবলামূলে ৩৯শতাংশ জমিতে বরকতিয়া ইসলামিয়া বালিকা শিশু সদন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত ০৪.০১.২০১০ প্রতিষ্ঠিত হয়। যার EMIS-107070939

জানা যায়, ১০.০৯.২০১২খ্রিঃ তারিখে বরকতিয়া ইসলামিয়া বালিকা শিশু সদন নামকরণ পূর্বক আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু করে পরবর্তীতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নিবন্ধন করে। অত্র প্রতিষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ০৫জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বিনা বেতনে দীর্ঘ ১০বছর যাবৎ পাঠদান দিয়ে আসছে। প্রতিবছর ০৮-১২জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়। নিবাসীরা ৬ষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পূর্বক লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা নুরানী, নাজিরাহ্ ও হিফযুল কুরআন শিক্ষার জন্য হিফয শিক্ষক-০১,নুরানী-০১,নাজিরাহ-০১ জন এবং বাবুর্চি -০১ ও নৈশ্য প্রহরী-০১ আবাসিক কর্মরত আছে। বর্তমানে এখানে আবাসিক ৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে তন্মধ্যে ৪২ জন অত্যন্ত গরীব অসহায়  এতিম, অনাবাসিক -৪৫ জন সর্বমোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায় ওই প্রতিষ্ঠানে বর্তমান সভাপতি জনাব আলহাজ্ব মোঃ আবু সুফিয়ান পাভেল সুদক্ষ নেতৃত্বে এবং আলহাজ্ব মুহাঃ আব্দুস ছাত্তার সরদার সাহেব নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সার্বিক বিবেচনায় এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করছে।শতশত অসহায় এতিম বালিকা শিশু সুশিক্ষা অর্জন করছে।

উল্লেখ্য যে, অত্র প্রতিষ্ঠানটির শুরু লগ্ন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বরকতিয়া ইসলামিয়া বালিকা শিশু সদন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত বিদ্যালয় জাতীয়করণের জোড় দাবী জানান। দুঃখের বিষয় অত্র বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী কেবল সরকারি বই-পুস্তক ব্যতিত আর অন্য সুবিধা পাচ্ছে না। দৈনিক বাংলাদেশ তৃণমূল সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সরেজমিনে পরিদর্শন দেখা যায় যে, সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ১৮ জন নিবাসীর ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ প্রদান করেন অবশিষ্ট নিবাসীদের যাবতীয় ব্যয়ভার এলাকাবাসীর বিভিন্ন প্রকার  দানে পরিচালিত হয়। এই স্বল্গ বরাদ্দকৃত টাকা দ্বারা অসহায় গরীব এতিমদের প্রতিপালনসহ যাবতীয় খরচাদি করতে কর্তৃপক্ষ চরম হিমশিম খাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের নিকট এবং উল্লেখিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। জেলার একমাত্র নিবন্ধিত বালিকা বেসরকারি এতিমখানা হওয়ায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করছে।