হারুনুর রশিদ, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ রায়পুরায় বৈদ্যুতিক শর্ক সার্কিটের আগুনে পুড়ে এক ঘরের ৩টি রুম পুড়ে ছাই হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নে ৬ নং ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের বেপারি বাড়ীর মৃত জমসের আলীর ছেলে আব্দুল বাছেদ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ক সার্কিটের থেকে আগুনের সুত্রপাত। আগুনে পুড়ে ভুক্তভোগীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সুমন মিয়া নামে একজন জানান, সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে আব্দুল বাছেদ মিয়ার ঘর থেকে ধোঁয়া দেখতে পাই একটু এগুতেই শুনতে পাই চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি বাছেদ মিয়ার ঘর পুড়তেছে।
ঘটনাাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়া হলেও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগেই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ত্রনে চলে আসে। দীর্ঘ ২ ঘন্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী। ততক্ষণে অগ্নিকান্ডে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, গহনা, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রতিবেশী কামরুল হাসান জানান, আগুন লাগার সাথে সাথে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দেই, তারা সময় মত ফোন ধরে নাই। ২০ থেকে ২৫ বার ফোন দেয়ার পরও তারা কল ধরে নাই। পরে ২৬-২৭ বারের মাথায় তারা কল ধরলে বিদ্যুতের লাইন অফ করে। আগে ফোনটা ধরলে এত ক্ষতি হতোনা। তাদের উদাসিনতার জন্যই আজকে এতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ভুক্তভোগীর পুত্র বধু শাহীনুর আক্তার বলেন,ঘরে তিনটি রুম রয়েছে। আমি মধ্যের রুমে কাজে ছিলাম হটাৎ পূর্ব পাশের রুম থেকে ধোঁয়া দেখতে পাই বারান্দায় এসে চিৎকার চেচামেচি করি কয়েক জন এসে আমাকে উদ্ধার করে।ওই রুমটা ব্যবহার খুব কম হয়। বিদ্যুৎ থেকে আগুন লাগতে পারে।ভুক্তভোগী আব্দুল বাছেদ মিয়ার ভাই বৌ শাফিয়া বেগম বলেন,ধোঁয়া দেকে লোকজন কে ডাকা ডাকি করি। সকলের সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান,আমার ঘরে স্বর্নালংকার, নগদ টাকা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আলমারি, খাট সহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আমার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো ক্ষতি সাধন হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে ঋন করে ঘর তৈরি করেছি। এখন কি করবো বুজতেছি না।
উত্তর বাখর নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জালাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আগুন লাগার ঘটনা শুনেছি। কিছুখন পর পরে সরজমিনে দেখতে যাবো।
এ ব্যাপারে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ রায়পুরা জোনাল অফিসের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে জানান, আমরা প্রথম কল ধরেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিই।
রায়পুরা ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার রহিদুর রহমান জানান, আমরা ফোন পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিই কিন্তু সে দিকের রাস্তার বেহাল দশার কারনে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আমাদের দেরি হয়। ততক্ষণে স্থানীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। এ ঘটনায় আনুমানিক ৭ লক্ষ টাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।