নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লিপু হত্যার গ্রেফতারকৃত আসামী সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যা এক মূর্তমান আতংকের নাম। গত ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর খুলনার ফুলতলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাবেক চরমপন্থী নেতা মোল্লা হেমায়েত হোসেন লিপু হত্যার ঘটনায় তার ভাই মোল্লল হেদায়েত হোসেন লিটু বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮ জনসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-১৪,;তাং-১৯/১২/২০২০ইং)।

উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মূর্তমান আতংক দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চরমপন্থী নেতা ফারুক মোল্লাসহ আরো দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুত্র মতে, গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ইং শুক্রবার রাতে ফুলতলার গরুহাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাবেক চরমপন্থী নেতা মোল্যা হেমায়েত হোসেন লিপু। এ ঘটনায় তার ভাই ও ফুলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্যা হেদায়েত হোসেন লিটু বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা  দায়ের করেন।

মামলায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ও বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। রাতেই পুলিশ গোপন অভিযান চালিয়ে ফুলতলার পয়গ্রামের একটা বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যা (৪৫) ও তার সহযোগী কালিয়া থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃতঃ আবু বক্কার শেখের পুত্র সন্ত্রাসী মুরাদ হোসেন শেখ (৪০) কে আটক করে।

এছাড়া উক্ত হত্যার ঘটনায় মিন্টু শেখ (৩৭) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তিনি উপজেলার পয়গ্রাম এলাকার সিরাজুল ইসলামের পুত্র। পূর্বে আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য যে, পুলিশের তালিকাভুক্ত ফুলতলার তাঁজপুর গ্রামের মৃত আঃ সামাদ মোল্যার পুত্র হেমায়েত হোসেন লিপু নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের ক্যাডার হিসেবে ২০১৯ সালের মে মাসে পাবনায় গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নিকট অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সরকার প্রদত্ত আর্থিক অনুদান পেয়ে সে এলাকায় অবস্থান করছিল।

পয়গ্রামের মৃত হাসান মোল্যার পুত্র ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যার নেতৃত্বে ঐ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ফুলতলা এলাকার ৩২ ক্যাডার আত্মসমর্পণ করে সরকার প্রদত্ত মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে। গত রমজানের ঈদে ফুলতলা উপজেলা অডিটরিয়ামে স্থানীয় সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও খুলনা পুলিশ সুপার এস এম শফিউলাহের উপস্থিতিতে ঈদ উদ্যাপনের জন্যও প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

এরপরও থেমে ছিল না বহু মামলার আসামী সন্ত্রাসী ফারুক বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। খেয়া ঘাটের ইজারা, ভৈরব নদের অবৈধ বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হিন্দুদের বাড়ি দখল, মাদক ব্যবসাসহ, বিভিন্ন অনৈতিক অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে প্রকাশ্য ভাবে। আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যেন প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির বৈধতা ফিরে পায় ফারুক মোল্যা ও তার বাহিনী।

এদিকে গণমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ফুলতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যা প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করে। অপর দিকে ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন মোল্যা বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও তিনি আবারও ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। তার প্রধান সহযোগী হিসাবে চাচাত ভাই হেমায়েত হোসেন লিপু সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছিলো। এ বিষয় নিয়েও তাদের আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব ও টানা পড়েন থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর একটি সূত্র জানায়, হত্যাসহ বহু মামলার আসামী ফারুক মোল্যা ফুলতলার শিকিরহাট এলাকার ত্রাস ও এক মূর্তমান আতংকের নাম। তার ভয়ে একটি লোকও মুখ খুলতে সাহস পায় না।

সন্ত্রাসী জলিল বাহিনীর প্রধান জলিলের ছত্রছায়ায় অপরাধ জগতে উত্থান হয় সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যার। একের পর এক হত্যা, চাঁদাবাজী, দখল, ভূমিদস্যুতা ও মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

বিশেষ করে ফুলতলা বাজার বণিক কল্যান সোসাইটির সেক্রেটারী সরদার সালেহ আহমেদ কে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস ভাবে হত্যার মাধ্যমে নাম ছড়িয়ে পড়ে ফারুক মোল্যার (উক্ত মামলায় সাজাও ভোগ সহ )। এরপর আর থেমে থাকেনি সে। ফুলতলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন-১১১৪ এর সেক্রেটারী শাহাজাহান হত্যা, তাজপুরের নূর হোসেনকেও নৃশংসভাবে হত্যা সহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাম রাজত্বের মালিক বনে যায় ফারুক মোল্যা। এলাকার মানুষের কাছে যেন ফারুক মোল্যা হয় এক মূর্তমান আতংকের নাম। এক সময় এলাকার বাচ্চাদেরও ফারুক মোল্যা আসছে বলে ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানো হতো।  

হিন্দুদের বাড়িঘর দখল-চাঁদাবাজি, নির্যাতন সহ ফারুক মোল্যার অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

কথায় আছে- “কয়লা ধুইলেও ময়লা যায়না”। ২০১৯ সালের মে মাসে পাবনায় চরমপন্থীনেতা দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যার নেতৃত্বে ঐ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ফুলতলা এলাকার ৩২ ক্যাডার আত্মসমর্পণ করে সরকার প্রদত্ত মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ পেলেও প্রকৃতপক্ষে ভালো হয়নি ফারুক মোল্যার জীবন-যাপনের মান। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে প্রকাশ্যে পুরনো অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা ও সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের সংগঠিত করতে থাকে শুধুমাত্র এলাকায় ক্ষমতা ও প্রভাব  বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সরকার প্রদত্ত মোটা অংকের টাকা বাটোয়ারা নিয়েও ছিলো তার ক্ষমতার অপব্যবহারের অংশবিশেষ বলে অভিযোগ রয়েছে।

যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও আভ্যন্তরীন কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জের ধরে মোল্যা হেমায়েত হোসেন লিপুকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে সন্ত্রাসী ফারুক মোল্যা ও তার দুই সন্ত্রাসী সহযোগী।

উক্ত মামলায় সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী নেতা ফারুক মোল্যা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু ফারুক মোল্যা যদি কোনোভাবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে আসে তবে এলাকায় আবার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। খুন রাহাজানি ও বেড়ে যাবে।

ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, আমি এই থানায় আসার পর লিপু হত্যা মামলা কঠোরভাবে তদারকি করি। মামলায় ফারুকসহ আসামী গ্রেফতার হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনের ১৬৪ ধারা হয়েছে। বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো।