শফিকুল ইসলাম পলাশ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)  প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খুকনী মোল্লা পাড়ায় কোচিং সেন্টারে শিক্ষক-ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের অবরুদ্ধ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ঘটনায় খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক লম্পট হায়দার আলীর শাস্তি দাবী করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক হায়দার আলী (৬০) সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে মোল্লা পাড়ায় মুকুল মোল্লার বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছিল। সোমবার সকাল ৯ টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিংয়ে পড়ানোর এক পর্যায়ে তার স্কুলের এসএসসি পরিক্ষার্থী এক ছাত্রীকে নিয়ে পাশের রুমে গিয়ে বের হচ্ছিল না। তখন ছাত্র-ছাত্রীরা উঁকি দিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে রুমটিতে তালা লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে শিক্ষকের উপর চড়াও হয়।

এক পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব হাসমত আলী সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা লম্পট শিক্ষক ও ঐ ছাত্রীকে গণরোষের হাত থেকে উদ্ধার করে যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লম্পট শিক্ষক হায়দার আলীকে স্কুল হতে বহিঃস্কার ও শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তা খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হাজী অনিক আহমেদ ফিরোজের কাছে হাজির হয়। তখন তিনি পদক্ষেপ নেবার আশ্বাস দিলে মিছিলকারীরা ফিরে আসে।

এ ব্যাপারে হাজী অনিক আহমেদ ফিরোজ জানান, ঘটনাটি আসলেই নিন্দনীয়। আমরাও ঘটনা জেনে হতাশ হয়েছি। এ ঘটনার অভিযোগ পেলে লম্পট শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে হায়দার আলী এর আগেও এ রকম কয়েকটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সে ছাত্রীদের সাথে নানা ছলনায় অনৈতিক সম্পর্ক করে ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার এ ঘটনার পর পুলিশ সেখানে তদন্তে নেমেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক হায়দার আলীর ব্যবহৃত মোবাইলে বার-বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এঘটনায় অবরুদ্ধ সেই ছাত্রীর বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রীর বড় বোন জানায়, আমার ছোট বোন বাড়িতে নেই বলে এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি তিনি।

এ ঘটনায় এনায়েতপুর থানার এসআই আব্দুল লতিফ জানান, এলাকাবাসী যে অভিযোগ করছে তা প্রাথমিক ভাবে প্রমান পেয়েছি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।