রাজশাহী ব্যুরোঃ ‘গত ১০ মাসে (জানুয়ারি থেকে অক্টোবর) শুধু রাজশাহী জেলাতেই ৮৯ জন শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব নির্যাতন শিশুর নিকটাত্মীয় কিংবা আশেপাশের লোকজন দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে। আমাদের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতন করে শিশুদেরকে সকল প্রকার সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত করা। তাই শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

মঙ্গলবার সকালে (২৫ নভেম্বর) উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা “এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র “চিলড্রেন আর প্রটেক্টেড ফ্রম ভায়োলেন্স-সিপিভি’ প্রকল্পের “বাৎসরিক কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ার এ কথা বলেন।

প্রকল্পের সমন্বয়কারী মিরাজ উদ্দিন তালুকদারের উপস্থাপনায় এসিডির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (ক্রাইম) সোনিয়া পারভীন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনিয়া পারভিন বলেন, ‘প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের মানুষদেরকেও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সরকার বাল্যবিবার রোধে এবং মেয়েদের শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে। কিন্তু এর প্রচারের অভাবে অনেকেই বিষয়টি না জানার কারণে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা বলে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন।’ তাই বাল্যবিবাহসহ শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে উপস্থিত সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রেখে তা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশনের মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যগণ তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসময় প্রকল্পের ২০১৯ সালের অর্জনগুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং যে সীমাবদ্ধতাগুলো আছে সেগুলো কীভাবে সামনের বছরে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে দিকনিন্দেশনা উঠে আসে।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফিরোজ, ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ পলি দাস, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত (২২, ২৩, ২৪ নং ওয়ার্ড) মহিলা কাউন্সিলর নাদিরা বেগম। এসময় অন্যদের মধ্যে প্রকল্পের মনিটরিং এন্ড ডকুমেন্টেমন অফিসার রুহুল আমিন, সোশ্যাল ওয়ার্কার জাহিদ আনোয়ার খান, ইমদাদুল আলম জুয়েলসহ শিশু অধিকার ফোরাম, ইয়ূথ গ্রুপ, বাবা দল, সামাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

প্রসঙ্গত, এসিডি সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটি, শিশু অধিকার ফোরাম, ইয়ূথ দল এবং বাবা দলের সহায়তায় প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের ফলে এলাকায় শিশুদের প্রতি শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, বৈষম্য, শিশু পাচার, শিশুর প্রতি সেক্সুয়াল এবং জেন্ডারভিতিক সহিংসতা এবং বাল্য বিবাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সভায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনসহ সকলেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রাদনের আশ্বাস প্রদান করেন এবং যেকোনো সমস্যায় সরকারের হেল্প লাইন নাম্বারে (১০৯, ১০৯৮, ৯৯৯) ফোন করে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানান।