নিউজ ডেস্ক : সোমবার দুপুরে ফেসবুকে পরপর দুটো স্টাটাস দিয়েছেন বরিশালের উজিরপুরের বিএনপির র্প্রাথী জহিরউদ্দিন স্বপন। তিনি লিখেছেন ‘যত বাধাই আসুক আমি সব ভোটারসহ ৩০ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যাব। ইনশাল্লাহ’। পৃথক আরো একটি স্টাটাসে তিনি লিখেছেন ‘বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া ) আসনের ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের ৩ স্তরের নির্বাচনী এজেন্টদের তালিকা আমার হাতে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও গনমাধ্যমের সহযোগীতায় নিরপেক্ষ নির্বাচন ভোটাররা আদায় করে নিবে ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জহির উদ্দিন স্বপনের মত একজন শক্তিশালী প্রার্থীর এমন পোস্ট আশাবাদী করে তোলে যে , ৩০ ডিসেম্বরের ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। তবে ৩০০ আসনেই হয়তো এমন অবস্থা নয়। কারণ সোমবারও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বৈঠকে বসেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সেই বৈঠক বর্জন করে চলে এসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। বেরিয়ে এসে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।’

এদিকে রবিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সেখানে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়েও কথা হয়েছে। আর ঐদিনই নোয়াখালীতে নিজের বাড়ীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন ‘আমার জীবনের নিরাপত্তা না দিলে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে যাবো।’ গণসংযোগে গাড়ী ভাংচুরের প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা দেন তিনি। বিষয়টি জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর ও থানার ওসিকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির সুত্রগুলো বলছে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও, বেশিরভাগ প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকতে চান। যেমন জহির উদ্দিন স্বপন। রাজধানীসহ অনেক আসনে বিএনপির প্রচার প্রচারণা কম থাকলেও রাজশাহীর চিত্রটা ভিন্ন। শহর জুড়ে পোস্টার আছে বিএনপির প্রার্থির। মহানগর ও পাশের তিনটি আসনে সমানে সমানে লড়াই হবে। কিন্তু ভোটে থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত নাকি আসবে বিলেত থেকে!

১০ বছর পর দেশে একটি নির্বাচন হচ্ছে ,যেখানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল অংশ নিয়েছে। ভোটের লড়াই সমানে সমান হবে। তবে প্রচারে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা এবং হামলার মামলার অভিযোগের অন্তত নাই বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আবার ধানের শীষের ১৬ জন প্রার্থী আছেন কারাগারে। নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন গাজীপুরের ফজলুল হক মিলনসহ আরো কয়েকজন। সাতটি আসনে ধানের শীষের এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নাই। ফলে বিএনপির ভেতরেও নেতাদের একটি অংশ আছে যারা নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে চান। কিন্তু এর বিরোধিতাও আছে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার রাতেও দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। নির্দিষ্ট করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটি জানা যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক বর্জন করার পর নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘ভোট হচ্ছে জনগনের আমানত। ৩০ তারিখ সেই আমানত রক্ষা করতে হবে।’ এসব বক্তব্যের পর মনে হয় শেষ পর্যন্ত লড়তেই চান তারা। তবে অতীতে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাঝপথে বিএনপির সরে আসার উদাহরণ আছে । কিন্তু ১০ বছর পর ভোটের মাঠে নেমে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে কি লাভ হবে বিএনপির? আর এবারতো আওয়ামী লীগ বিরোধী শিবিরের র্শীষ নেতা ড.কামাল হোসেন। তার ভূমিকাই বা কি হবে?