শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা যেন ভেজাল কারবারীদের দখলে। ঢাকার জিঞ্জিরাকেও হার মানায় এখানকার নকল , ভেজাল কারবারীদের কর্মকান্ড। রাতারাতি যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার অবস্থা। নকল আর ভেজালের অনুসন্ধানে এবার একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টেরীর দিকে নজর দিতে হবে জনস্বার্থে। ভাটই বাজারের অনুমোদনহীন রুচি আইসক্রীম ফ্যাক্টেরী চলছে কিভাবে? সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি করছে? তাদের দায়িত্ব কি, এসব নিয়ে জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাঝে মধ্যেই অবশ্য এই রুচি মিল্ক আইসবার ফ্যাক্টেরীতে অভিযান চলে কিন্তু কয়েকদিন পরেই আবার চলে তাদের অবৈধ কার্যক্রম। গাভীর দুধ, বিশুদ্ধ পানি, ভেজিটেবল ফ্যাট, বিশুদ্ধ চিনি, গ্লুকোজ সিরাপ, ষ্টেবিলাইজার, ইমাসিফায়ারস, ফুড কালার সহ নানা রকম লোভনীয় উপাদানের মাধ্যেমে এই রুচি মিল্ক আইসবার তৈরীর কথা লেভেলে লেখা হলেও আদোতে এসবের অধিকাংশ ভুয়া। এছাড়াও বিভিন পন্য বাজারজাত করার পূর্বে যদি অন্য কোন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের নাম নিবন্ধন করে থাকে, তবে সেই নাম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবেনা বলে আইন থাকলেও। এখানে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর কোম্পানী রুচি এর নাম ব্যাবহার করতে দেখা গেছে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও মানহীন উপাদান দিয়ে তৈরী হচ্ছে এসব রুচি আইসক্রীম। প্রায় এক যুগের মত সময় ধরে চলে আসছে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন এই আইসক্রীম ফ্যাক্টরী। নেই কোন সাইনবোর্ড।
সরেজমিনে দেখা যায়, শৈলকুপার ভাটই বাজারের হাইস্কুল রোডে এক টিনের ছাপড়া ঘরের মধ্যে এই আইসক্রীম ফ্যাক্টরী অবস্থিত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানহীন কাঁচামাল দিয়ে তৈরী হচ্ছে আইসক্রীম। আইসক্রীম তৈরীতে ব্যবহৃত কাঠিতে ছত্রাক বাসা বেঁধেছে, সেইসাথে লেবেলবিহীন মানহীন পাউডার ব্যবহার করা হচ্ছে। মশা মাছি ভনভন করছে। সারি সারি ডিপ ফ্রিজে রাখা হয়েছে কারখানায় উৎপাদিত আইসক্রীম। আবার বিভিন্ন জায়গা থেকে ফেরৎ আসা আইসক্রীম ফ্রীজজাত করে রেখেছে, সময়মত নতুন আইসক্রীমের সাথে এগুলো বাজারজাত করা হবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইচ্ছামত লেবেল ব্যবহার করে নিজেরাই তাতে বসিয়ে দিচ্ছে উৎপাদন ও বিপননের তারিখ। নেই কোন অনুমোদন অথচ চোখের সামনে চালিয়ে যাচ্ছে এই রমরমা অবৈধ ব্যবসা। এই ফ্যাক্টরীতে উৎপাদিত রুচি আইসক্রীম বাজারজাত করা হচ্ছে শৈলকুপা উপজেলা ছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার দোকানীদের কাছে।বেশী মুনাফার আশায় দোকানিরা দেদারছে বিক্রয় করছে এসব আইচক্রীম। আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও নি¤œমানের উপাদান দিয়ে তৈরী এসব রুচি আইসক্রীম খেয়ে শিশুরা বিভিন্ন রোগে ভুগছে বলেও অভিযোগ আছে।
এব্যাপারে আইসক্রীম ফ্যাক্টরির মালিক উপজেলার ফুলহরী গ্রামের মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখছি না। আমি জেনে বুঝেই ব্যবসা করছি। আইসক্রীম উৎপাদনে বিএসটিআই এর অনুমোদন লাগেনা।
শৈলকুপা উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ওয়াহিদুজ্জামান মিয়া বলেন, এর আগেও এই রুচি ফ্যাক্টরীকে জরিমানা করা হয়েছিল। কোন অনিয়ম করলে তা মানা যাবে না, অবশ্যই এই ফ্যাক্টরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো: রাসেল জানান বিষয়টি নিয়ে আমি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। নিরাপদ খাদ্য জনগনকে নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন নকল, মানহীন, অবৈধ কারবারের পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, কথিত নেতা, অস্ত্রধারীদের নেপথ্য যোগাযোগ থাকে। এরা এসব কারবারীদের কাছ থেকে অর্থবিত্ত নিয়ে তাদের শেল্টার দিয়ে আসছে।