এম হাসান মুসা, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) থেকে : ঝিনাইদদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার পল্লীতে মাচায় মনোমুগ্ধকর তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ হচ্ছে। তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে ফলন ভাল হওয়ায় খুশি চাষি। দেশীয় প্রযুক্তিতে মাচায় এ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত দিয়ানত সর্দারের ছেলে মোশারফ হোসেন। তিনি ৬০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন । মাচার নীচেই ঝুলছে মনোমুগ্ধকর হলুদ রসালো নেটে বাধা শতশত তরমুজ।দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন সুস্বাদু। রোপনের অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বিক্রি করা যায়। অল্প দিনের এ তরমুজ চাষ বেশ লাভজনক্। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসে এই সোনালী রংয়ের তরমুজ দেখতে।পরিপাটি মাচায় শোভা পাচ্ছে শত শত সোনালী রংয়ের তরমুজ।
তরমুজ চাষী মোশারফ হোসেন জানান, তিনি শখ করে এজাতের তরমুজ চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। ৬০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করেছেন ১লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা এখনো মাঠে রয়েছে অনেক তরমুজ।তিনি এবারই প্রথম এজাতের তরমুজ চাষ করেছেন, প্রথম বছরে খরচ একটু বেশী হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে খরচ অনেক কমে আসে। তরমুজ সাধারনত শীতকালে বীজ রোপন করে বর্ষা মৌসুমের আগেই কেনা বেচা শেষ হয়।তবে এজাতের তরমুজ বছরে ২বার হয়ে থাকে।সাধারণরত বছরের মাঘ ফাল্গুন মাসে রোপন করা হয় আবার একই বছরের ভাদ্র আশি^ন মাসে রোপন করা হয়। প্রতিবারই ৬০-৭০ দিনের মধ্যে তরমুজ ঘরে চলে আসে। তিনি মাঘ ফাল্গুন মাসের দিকে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ বীজ রোপন করেন। রোপনের ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে মাচায় উঠে যাওয়া গাছে ব্যাপাক ভাবে ফুল ও কুড়ি চলে আসে। এরপর ৬০-৭০ দিনের মাথায় ফসল ঘরে আসতে শুরু হয়। স্বাদ ও অতুলনীয় বলে বাজারে এতরমুজের ব্যাপক চাহিদা। প্রতিটা তরমুজের ওজন ২ কেজি থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটা তরমুজ ১০০- ৪০০ টাকা বিক্রি করছেন বলে জানান।
ব্যাতিক্রমী এ তরমুজ চাষ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, এটা একটি নতুন প্রযুক্তি, আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন চাষ,এর ফলন ও দাম বেশী হওয়ায় কৃষকেরা বেশ লাভবান হবে।আমরা কৃষকদের পাশে খেকে সব সময় প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাবো যাতে করে এ তরমুজ চাষে অন্যান্য কৃষকেরা উৎসাহ পায়। ইতিমধ্যে এ কৃষককে আমরা ৩দিনের প্রশিক্ষন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।