ইসতিয়াক আহমেদ, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: নানা প্রতিকূলতার মাঝে পাকা টমেটো নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক! একদিকে টমেটোর বাজারে ধ্বস অপরদিকে লকডাউন সব মিলিয়ে জমির শতশত মন পাকা টমেটো নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাজারে খুচরাভাবে প্রতি কেজি টমেটো ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও পাইকারীভাবে কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৪ টাকা দরে। টমেটোর ন্যার্য দাম না পাওয়া ও করোনা মোকাবেলায় লকডাউনের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এখন জমি থেকে এসব টমেটো তুলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এখানকার কৃষকরা। বাগান থেকে টমেটো তুলতে শ্রমিক মজুরি ও যাতায়াত খরচ বাদে কৃষকের লাভের অংশ বলতে আর কিছুই থাকছে না। তাই জমিতেই নষ্ট হচ্ছে শতশত মন পাকা টমেটো।এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন টমেটো বাগান ঘুরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রীনগরের বিবন্দী, জুরাসার ও মুসলিমপাড়া এলাকায় কয়েকটি টমেটো বাগানের করম্নন দৃশ্য। শতশত কেজি পাকা টমেটো গাছেই পচে নষ্ট হচ্ছে। একদিকে টমেটোর বাজারে ধ্বস অপরদিকে করোনা রোধে দ্বিতীয় লকডাউনের কারণে জমির ফসল নিয়ে বিপাকে পরছেন কৃষক। তারা বাধ্য হয়েই এখন বাগান থেকে টমেটো তুলতে চাইছেন না।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারগুলো খুচরাভাবে ১০-১৫ টাকা দরে প্রতি টমেটো বিক্রি করা হ”েছ। অথচ জেলার বিভিন্ন সবজির পাইকারী বাজারে কৃষকদের এসব টমেটো বিক্রি করতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪ টাকায়।

এছাড়াও ওই এলাকার লিটন, মোস্তফা, অপুসহ অনেকেই জানান, এবছর টমেটোর দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। লকডাউনের কারণে টমেটো বাজারজাতকরণে আরো বিপাকে পরছেন তারা। জেলার শ্রীনগর বাজার ও লৌহজংয়ের মালিরঅঙ্ক, ঘোড়দৌড়সহ মাওয়া এলাকার পাইকারী সবজির বাজারগুলোতে অতিরিক্ত যাতায়াত ভাড়া দিয়ে প্রতি ২৫ কেজি ওজনের ১ ঝুড়ি টমেটো তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। সব খরচ বাদে ও খাটা খাটোনি শেষে টমেটোটে কোনও লাভ হচ্ছেনা এমনটাই বলেন তারা।

নিজাম শেখ নামে এক কৃষক বলেন, তিনি ১৪ শতাংশ জমিতে সর্বমোট ৩৩ হাজার টাকা খরচ করে ভাল জাতের টমেটোর আবাদ করেন। ফলনও ভাল হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত বাগান থেকে ৮০/৮৫ মনের মতো টমেটো বিক্রি করেছেন তিনি। তার প্রতি মন টমেটো শ্রীনগর পাইকারী বাজারে বিক্রি করতে হয়েছে গড়ে ১২০ টাকা দরে। এই পর্যন্ত টমেটো বিক্রি করেছেন সর্বোমোট মাত্র ১০ হাজার টাকা। নানা প্রতিকূলতার মাঝে বাগান থেকে এখন এসব টমেটো তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন তিনি।