নাদির আহমেদ পারভেজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চাওবন এলাকায় সীমানা নির্ধারন না করে রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করে বনের জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অদৃশ্য কারনে বন বিভাগের নিরব ভূমিকা পালন করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের অধিনে সূর্য নারায়ণপুর বিটের আওতায় ৫২ নং মৌজার চাওবন গ্রামের এসেন্ট সান প্যাকেজিং লিমিটেড নামক কারখানাটি এসএ-৭৬ আর এস-৪০৫ দাগে ৬১.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে। কিন্তু পাশে থাকা বনের জমির সীমানা নির্ধান না করেই বেশ কিছুদিন ধরেই মাটি দিয়ে ভরাট করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় সেখানের বিট কর্মকর্তা আনিস মিয়ার যোগসাজশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের গজারি বন সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে মাটি দিয়ে বন বিভাগের এসএ-৭৮ ও ৪৬ দাগের জমির পাশে ভরাট হচ্ছে। এছাড়াও কারখানার নির্মানাধীন জায়গাটি দু-ফসলি ধানের জমি। কারখানাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমি ক্রয় করে এর আশপাশের সরকারি জমি দখলের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শত বছর ধরে বসবাস করার পরও নতুন করে টয়লেট তৈরি করতে গেলে বন বিভাগের লোকজনে বাঁধা আসে। অথচ প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে বনের জমিতে বড় বড় স্থাপনা নির্মান করলেও অদৃশ্য কারনে নিরব ভূমিকা পালন করে বনবিভাগ।

কারখানার নামে ক্রয়কৃত জমিতে মাটি ভরাট করা হচ্ছে জানিয়ে এসেন্ট সান প্যাকেজিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, বন বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের নিজস্ব সার্ভেয়ার দিয়ে বনের জমির সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে খুঁটি স্থাপন করে এর ভেতর মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এখনও বনের জমিতে মাটি ভরাট হয়নি।

নিজেরাই বনের জমির সীমানা নির্ধারন করার বিষয়টি কতটুকু যুক্তিসম্মত এবং রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন করে বন বিভাগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

যোগসাজশের বিষয়ে জানতে গেলে প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে সূর্য নারায়ণপুর বিট কর্মকর্তা আনিস মিয়া মুঠোফোনে বলেন, নকশা অনুযায়ী ওই জমিতে গিয়ে আপাতত কাজ বন্ধ করতে বলেছি। তবে, কারো ব্যক্তিগত জমিতে মাটি ভরাটের বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কিন্তু বনের জমির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন স্থানে মাটি ভরাট বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে তাদের কাগজ পত্র নিয়ে সীমানা নির্ধারনের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, মাত্র ৫দিন হয়েছে আমি এ রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। ওই এলাকায় জমি দখলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো কৃষি জমি অকৃষি কাজে যেমন শিল্প কারখানার হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা। কোথাও এ নিয়মের বাইরে কৃষি জমি ভরাট করে কারখানা স্থাপন করে থাকে তাহলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।