সফলতার মুখ দেখছেন রফিক মাস্টার বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে

হারুনুর রশিদ নরসিংদীঃ নরসিংদীর রায়পুরায় এ মূহুর্তে সব চেয়ে বড় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ফার্ম তৈরি করেছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক মাস্টার। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ নামাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিন-ইয়ামিন অর্গানিক ফিস ফার্ম। পেশায় শিক্ষক হলেও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সফলতা স্বপ্ন দেখছেন। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে পানির মধ্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা হয় যেটা মাছের খাবারে রিসাইকেল করে। আবার এটা পানি পরিশোধন করতেও সাহায্য করে। পানিতে নাইট্রোজেন আর কার্বনের অনুপাত ঠিকমতো না হলে এটা কাজ করবে না এবং মাছ মারা যাবে। এ কারণে বায়োফ্লক পদ্ধতির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনার দরকার হয়।এ পদ্ধতির মাছ চাষের অবকাঠামোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় এবং মাছের ট্যাংকির পানি কখনও পরিবর্তন করা যাবে না। অনেকে বায়োফ্লক পদ্ধতির ক্ষেত্রে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা ঠিক নয়। সাধারণভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি শতাংশে আড়াইশো গ্রাম লবণ দেওয়ার নিয়ম , যা মাছকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া,ক্ষারত্ব, পিএইচ,ক্যালসিয়াম,নাইট্রেট, ফসফরাস, আয়রন, পানির স্বচ্ছতা, গভীরতা, লবণাক্ততা এই গুলো সঠিক ভাবে রাখতে হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষের চেয়ে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সুচারুরূপে দেখতে হয়। রফিকুল ইসলাম রফিক মাস্টার বলেন, গত ২০১৯ সালে সৌদি আরব হজ্জ পালন করতে গেলে প্রবাসী এক বন্ধু আমাকে পরামর্শ দেন বায়োফ্লকের। তার দেওয়া পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে তারই পরিচিত বন্ধুর নিকট থেকে দীর্ঘদিন একটি বায়োফ্লক ফার্মে চাষের  ওপর প্রশিক্ষণ নেই। ২০২০ সালে স্বল্প পরিসরে বিন-ইয়ামিন অর্গানিক ফিস ফার্ম নামে কার্যক্রম শুরু করি। ৪ মাস পর প্রথম ধাপে কিছুটা সফলতা দেখতে পাই। আমার ৩ টি ট্যাংকে তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, শিং, কই চাষ হচ্ছে। আগামী মাসে আরও নতুন ৩ টি ট্যাংকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি । মাগুর, গোলশা,পাবদাসহ সব দেশিয় প্রজাতির সব ধরনের মাছ চাষ করার ইচ্ছে পুষন করছি। তিনটি ট্যাংকিতে পাঙ্গাশ,তেলাপিয়া, শিং মাছ গুলো বিক্রি করার উপযুক্ত। আগামী মাসে বিক্রি করতে পারবো। বর্তমানে একটা ৪০×২০ ফিট ট্যাংকে ১০ হাজার তেলাপিয়া চাষ করেছি। কমকরে হলেও ২ হাজার কেজি মাছ হতে পারে। লাভের আশায়  স্বপ্ন দেখছি ।

তিনি আরও জানান, উপজেলা মৎস্য অফিসার অনুরোধ করি দীর্ঘদিন পর ফার্মটি পরিদর্শন করেছেন গত সপ্তাহে । সরকারি কোনও প্রকার পরামর্শ সহযোগিতা পাইনি। সহযোগিতা পেলে আরও সফলতার সাথে এগিয়ে যেতে পারবো।উপজেলার সিনিয়র মৎস অফিসার মো হাবিব ফরহাদ আলম বলেন, বায়োফ্লক ফার্মটি পরিদর্শনে গিয়েছি । তিনি নিজ  উদ্যোগে ফার্মটি পরিচালনা করার জন্য ধন্যবাদ। এই ভাবে  বাড়ির আংগিনায় সল্প জায়গায় অধিক পরিমাণে মাছ চাষ করা সম্ভব। মাঠি, পানি দোষন কম হয়। যার ফলে  পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। কৃষি জমির সদ ব্যাবহার। জমির চাপ কমবে কৃষি ব্যাহত হবে না। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মধ্যেমে বেকার সমস্যা সমাধানে তৈরি হবে নতুন  উদ্যোক্তা। আমাদের এখানে সবসময় পরামর্শ দেয়ার সুযোগ আছে। রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি যার মাধ্যমে পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া,ক্ষারত্ব, পিএইচ,  ক্যালসিয়াম,নাইট্রেট, ফসফরাস, আয়রন, পানির স্বচ্ছতা, গভীরতা, লবণাক্ততা এই গুলো পরীক্ষার যন্ত্রপাতি রয়েছে। বেকার যুবক যুবতীদেরকে বায়োফ্লকে মাছ চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।