মোঃ বেল্লাল হোসেন নাঈমঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে বসুরহাট এলাকা থেকে রোববার দুপুরে বেলাল ওরফে পাংখা বেলাল নামের এক যুবককে আটক করেছে পিবিআই। হত্যা ঘটনার ১৫ দিনপর পিবিআই পুলিশ একজনকে আটকের মধ্য দিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। আটককৃত বেলাল চরফকিরা ইউনিয়নের ইব্রাহিমের পুত্র এবং স্থানিয় যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত। তাকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নোয়াখালীর পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।

ইতিমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে সিসি ফুটেজ সংগ্রহে গাফিলতিরও অভিযোগ ওঠে। সিসি ফুটেজ গায়েবেরও অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ দায়িত্বশীল হলে সিসি ফুটেজ ইতিমধ্যে তাদের সংগ্রহে চলে আসতো বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।

নিহত বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির এর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ বেলাল নামের একজনকে আটক করেছেন। আসামি চিহ্নিত না হওয়ায় ঘটনার সাথে জড়িতরা সকলেই প্রকাশ্যে ঘুরছে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশ কেবলই সাংবাদিকদের বেলায় উদাসিন। যার প্রমান মুজাক্কির হত্যা ঘটনা। ইতিমধ্যে সিসি ফুটেজ গায়েব কাহীনি। ভয়ভীতি আর রাজনৈতিক পক্ষে-বিপক্ষ প্রতিপক্ষের রোষানলে মুজাক্কির হত্যা ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্টাও করা হচ্ছে। দ্রুত সকল আসামি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানিগঞ্জে আ’লীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষকালে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ভিডিওচিত্রধারন করেছিল মুজাক্কির। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একপক্ষের সন্ত্রাসীরা মুজাক্কিরের ভিডিও ডিলেট করতে চাপ দেয়। মুজাক্কির রাজী না হওয়ায় তাৎক্ষনিক খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। এতে তার বুক ও গলা ঝাজড়া হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। রক্তক্ষরন বন্ধ না হওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মারা যান।

পুত্র হত্যার বিচার পেতে পিতা নওয়াব আলী মাষ্টার বাদী হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই পুলিশ তদন্ত করছেন।
এদিকে হত্যাকান্ডের সুষ্ঠুতদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ডাকে ২৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও ২ মার্চ ৬ ঘন্টার কলম বিরতি পালন করে। বিচারের দাবিতে সারাদেশের সাংবাদিকরা সোচ্চার রয়েছে।