নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সিইসিকে একহাত নিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বুধবার সংলাপে অংশ নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) অতিকথন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি এক ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও তিনি দুই ঘণ্টাই সংলাপ চালিয়ে যান।

সময় বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাদের সিদ্দিকী ইসির কাছে জানতে চান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য দুই ঘণ্টা সময় রাখা হলে কেন তার দলের জন্য এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হলো। এ সংলাপে সিইসি তাদের জানান, মেরুদণ্ড বাঁকা বা নতজানু হয়ে নয়, মেরুদণ্ড সোজা রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে দায়িত্ব পালন করবেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ইসির সঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্য সংলাপের সময় নির্ধারিত ছিল। দলটির ১০ জন প্রতিনিধিকে এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। সংলাপ দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে সাড়ে চারটায় শেষ হয়। এদিন বিকাল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে সংলাপ শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও দলটি অংশ নেয়নি। এর আগে সকালে সংলাপে অংশ নেয় জাকের পার্টি। এদিন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি অংশ নেয়নি।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আগের সিইসির মতো আপনাকেও আমি কদিন যাবৎ দেখছি, আপনি কথাবার্তায় ভাসছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন নষ্ট হবে, গণতন্ত্র নষ্ট হবে, এই ধরনের কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি।

বঙ্গবীর বলেন, আমরা বলব- এখানে বিএনপি কিছু নয়, আওয়ামী লীগও কিছু নয়। এখানে সবকিছু হচ্ছে জনগণ এবং দেশের ভোটার। যদি ৬৫-৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যায় এবং ভোট দেয়, তাহলে আপনার চেয়ে চমৎকার নির্বাচন কমিশন আর হতে পারে না। সেজন্য নির্বিবাধে ভোটারদের ভোটে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যেটা যথার্থ বলেছেন, মানুষের উৎসাহ কমে গেছে। সেটা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ত্যাগের ইসির দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গ তোলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ক্ষমতা থাকলে কেন নির্দেশনা মানাতে পারলেন না। আর ক্ষমতা না থাকলে তাকে সেই নির্দেশনা দিলেন কেন?