আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ থেকেঃ পূর্ব শত্রুতার জেরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামের কুখ্যাত হায়দার আলী ও দুলাল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ইছামতি গ্রামের একশত পরিবার। এমনকি তাদের হাত থেকে রেহায় পায়নি নারী সদস্যরাও। এদের অত্যাচারে প্রায় একশত পরিবার পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১০ আনা গ্রুপ এর সাথে একই গ্রামের ৬ আনা গ্রুপ এর সাথে বিরোধ চলিয়া আসিতেছিল। এরই জের ধরে মার্চ মাসের শুরুতে হায়দার ও দুলাল বাহিনীর ক্যাডাররা ৬ আনা গ্রুপের আলামিন ও শফিকে বেধরক মারপিট করে গুরুতরভাবে যখম করে ও বাড়ী ঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এমনকি একই গ্রামের সুরুতজামালকে দিয়ে ফুসলিয়ে হায়দার ও দুলাল উল্টো ৬আনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরে বাদী ভুল বুঝতে পেরে মামলাটি উঠিয়ে নেয়। মামলাটি উঠিয়ে নেয়ার কারনে হায়দার ও দুলাল বাহিনী বাদীর চাচাতো ভাই ভ্যানচালক হযরত আলী ও লতিফকে ভদ্রবাড়ির পাশে রাস্তায় চলার পথে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। এই বিরোধ মিমাংসার জন্য সালাহ উদ্দীন খান বাচ্চুসহ গ্রামের ময়মুরুব্বী মাঝখানে দাড়ালে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হায়দার ও দুলাল বাহিনী সিরাজগঞ্জ থানায় একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এর আগেও বিষয়টি মিমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমাণ্য বক্তি বর্গ বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বলে জানান এলাকাবাসী। গত ৩০ মে তারা মিমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে পাতানো ফাঁদে পুলিশ দিয়ে সালাহউদ্দিন খান বাচ্চু কে গ্রেফতার করেন। গত ৩ জুন মামলায় জামিন পাওয়ায় পরেরদিন ১০ আনা গং ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম খান এর বাড়ীসহ বেশ কয়েকটি বাড়ী ঘরে হামলা চালায়। এমনকি লুটতরাজ করে বৈদ্যুতিক মিটার সহ ধান, চাল নিয়ে চলে যায় এবং একটি পাওয়ার টিলারও ভাংচুর করে। হামলায় আজমুল সহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। আজমুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক । এ বিষয়ে ইছামতি গ্রামের আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম খান, শফি খান, ঠান্ডু শেখ, মুনসুর খান জানান, হায়দার ও দুলাল বাহিনীর অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমাদের বাড়ী ঘর সহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তারা বারবার হামলা চালিয়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। একাধিক মামলা থাকা সত্বেও তাদের গ্রেফতার না করায় তারা আরোও দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। তারা আরো জানায় প্রতিদিনই তাদের বাহিনী দ্বারা আমরা অত্যাচারিত হচ্ছি। আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই সুষ্টু তদন্ত পূর্বক এই অত্যাচারির হাত থেকে আমরা যেন রেহাই পাই। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, হায়দার এর ছেলে মেরাজুলের অতি আল্প সময়ে অবৈধ টাকার পাহাড়ই এ গ্রামে নৈরাজ্যের মূল কারন। এ ব্যাপারে হায়দার ও দুলাল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সে কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।