নাদিম হায়দার, ব্যুরো চীফ মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জন অটোরিকশা ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজতে থাকা ৪ অটোরিকশা সহ অস্ত্র উদ্ধার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। এবিষয়ে প্রেসব্রিফিং করেছে পুলিশ।

সিরাজদিখান থানা সহ মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থান হতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা উদ্ধার সহ ৬ জন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গত- ০৬/১০/২০২১ খ্রিঃ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানাধীন ষোলঘর গ্রামে মৃত নাগর আলী শেখ এর ছেলে মোঃ আলমগীর শেখ(৩৮) তার ব্যাটারী চালিত মিশুক যোগে ভাতিজা জাহিদুল ইসলাম সহ অসুস্থ্য রুগী মোঃ মনির হোসেন জীবনকে সিরাজদিখান থানাধীন নিমতলা প্রাইভেট হাসপাতাল হতে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে হাসাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। একই তারিখ রাত অনুমান ০৩.৫০ ঘটিকার সময় সিরাজদিখান থানাধীন চালতিপাড়া নামক স্থানে পৌছা মাত্রই অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক পাকা রাস্তার পশ্চিম পাশের লেনে ধইঞ্চার আটি রেখে যান চলাচলের প্রতিবন্ধাকতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করিয়া দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়া তাদের মিশুক গাড়ী থামায় এবং মোঃ মনির হোসেন জীবন ও মোঃ জাহিদুল ইসলামকে সহ তাদের তিন জনকে অস্ত্রের মুখে পাকা রাস্তার উপর হতে ভিন্ন পথে জনমানবহীন নির্মানাধীন রেল লাইনের পশ্চিম দিকে জলাশয়ের পাশে হাত, পা ও মূখ বেধে মারপিট করে। অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা ভিকটিমদের মোবাইল, ম্যানি ব্যাগ, ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ০৫ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, একটি কানের আইপড সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও হাসপাতাল এর পেসক্রিপশন ছিনিয়ে নেয়। ভিকটিমদেরকে হাত পা ও মুখ বেধে বালুর মধ্যে ফেলে রেখে ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়িটি নিয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। ভিকটিমগণ একে অপরের সহায়তায় তাদের বাধন খুলে রাস্তার দিকে আগাইয়া আসলে সিরাজদিখান থানার টহল পুলিশ তাদের দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানায়। টহল পুলিশের নের্তৃত্বে থাকা এসআই(নিঃ)/ মোঃ শাহিন আহম্মেদ নয়ন তাৎক্ষনাৎ বিষয়টি সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনসহ সহকারী পুলিশ সুপার(সিরাজদিখান সার্কেল), মুন্সীগঞ্জ’
রাশেদুল ইসলাম, কে অবহিত করেন।

তাদের দিকনির্দেশনায় ভিকটিমদের নিয়ে তাৎক্ষনাৎ অভিযান চালিয়ে সিরাজদিখান থানার কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া ব্রীজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস রোড এলাকায় ৪ জন সন্দেহভাজন লোক দেখে টহল টিম তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদকালীন ভিকটিম মোঃ আলমগীর শেখ ছিনতাইকারীদের চিনতে পারিলে ছিনাতাইকারীরা পুলিশের নিকট ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করলে পুলিশ মোঃ রাজন, মোঃ বাপ্পী চৌধুরী, মোঃ সবুজ ও মোঃ সোহেল নামক চারজন ছিনতাইকারীকে আটক করে এবং তাদের দেখানো মতে চালতিপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে বালুর মধ্য হতে একটি রাম দা, একটি দেশী দা, একটি লোহার জিআই পাইপ উদ্ধার করে। ছিনতাইকৃত মিশুকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছিনতাইকারীরা জানায় তাদের সহযোগী মোঃ কাশেম মিশুক নিয়ে ঢাকার দিকে গেছে। তখন উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এসআই মোঃ শাহিন আহম্মেদ নয়ন এর নের্তৃত্বে এসআই মোঃ জিয়াউর রহমান, এসআই মোঃ আশরাফ কামাল মিয়া, এসআই মোহাম্মদ ইমরান খান, এএসআই মোঃ রিপন মিয়াসহ সংগীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ডিএমপি ঢাকার হাজারীবাগ থানাধীন ঝাউচর বাজার চৌরাস্তার মোড় হতে মোঃ কাশেম’কে আটক করে এবং তার হেফাজত হতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ীটি উদ্ধার করে। আটককৃত মোঃ কাশেম এর দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাইকারী চক্রের অপর সদস্য মোঃ রাজন আলী’কে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কদমতলী এলাকা হতে আটক করে। ছিনতাইকারীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই হওয়া আরো তিনটি সহ সর্বমোট চারটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা উদ্ধার করে।

আটককৃতরা হলেন ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার মনু বেপারীর ঢাল গ্রামের জনৈক মোঃ মোস্তফা এর ছেলে মোঃ রাজন, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের মৃত জালাল চৌধুরীর ছেলে মোঃ বাপ্পী চৌধুরী(২৪), পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার সিরামপুর গ্রামের মোঃ সেলিম সিপাই এর ছেলে মোঃ সবুজ(২৬), ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কাজীরচর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ সোহেল (৩৫), ডিএমপি, ঢাকার লালবাগ থানার ইসলাপুরের মোঃ জাকির হোসেনের ছেলে মোঃ কাশেম(৩০), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দীরবন গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মোঃ রমজান (৩৫)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় দ্রুত বিচার আইনে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এসআই শাহিন আহম্মেদ নয়নের নের্তৃত্বে সিরাজদিখান থানার একটি চৌকস টিম মুন্সীগঞ্জ জেলা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছয়জন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে তাদের হেফাজতে থাকা বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই হওয়া চারটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা,মিশুক, এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি রাম দা, একটি দেশী দা, একটি লোহার জিআই পাইপ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। উক্ত বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় দ্রুত বিচার আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের অপর সহযোগীদের গ্রেফতার করা সহ ছিনতাই হওয়া আরো অটো রিক্সা উদ্ধারের জন্য সিরাজদিখান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।