গত ১০ বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম। গতকাল জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা সাড়ে ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঞ্চয় করার মনোভাব ও অভ্যাস গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে স্কুল ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে টার্গেট গ্রুপ ১১-১৭ বছরের তরুণ-তরুণী ও ছাত্রছাত্রীদের কোনো আয়ের উৎস নেই।

তারা তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উৎসব ও পার্বণে উপহার বা নগদ অর্থ পেয়ে থাকে, অথবা নিয়মিতভাবে দুপুরের টিফিন বাবদ যে অর্থ পেয়ে থাকে, তা থেকে কিছু অর্থ বাঁচিয়ে জমা রাখার নিমিত্তে স্কুলের নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় একটি সেভিংস হিসাব খোলার উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাই স্কুল ব্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে বেশ সাড়াও ফেলছে। শিক্ষার্থীরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠেছে। স্কুল ব্যাংকিং শুরু হওয়ার পর থেকে তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৩টি। আর এতে শিক্ষার্থীদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীদের আছে ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর মেয়েদের ১ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৫২ শতাংশ হিসাব শহরাঞ্চলে এবং ৪৮ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে। এ সময়ে গ্রামীণ পর্যায়ে এই প্রান্তিকে হিসাব বেড়েছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে শহরে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ৫৫টি ব্যাংকে বিদ্যমান এই স্টুডেন্ট ব্যাংকিং স্কিম। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সরকারি ব্যাংকের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে আছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে এগিয়ে পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে যথাক্রমে প্রথম রয়েছে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। যাতে হিসাব রয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৭; এরপর রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার হিসাব সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬০টি; অগ্রণী ব্যাংকে হিসাব সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১১টি; এশিয়া ব্যাংকে হিসাব সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬টি এবং সর্বশেষ রয়েছে রূপালী ব্যাংক, যাদের হিসাব সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৬টি। ভবিষ্যতে অর্থের সংকট মেটাতে সবার সঞ্চয় করার অভ্যাস করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয় উদ্বুদ্ধ করতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এ জাতীয় সঞ্চয়ে।