এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকিতে দেখা মিলেছে টর্নেডো বা জলস্তম্ভের। শনিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা থেকে স্থানীয় ব্যক্তিরা এ টর্নেডো দেখতে পায়।

৫০ বছরের মধ্যে হাওরে এমন দৃশ্যের দেখা মেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এমন দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটির দ্বারা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়টি জানতে চাইলে যোগাযোগ করা হয় সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে।

তিনি জাপানের কাইটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রফেসর ড. শি থাইচি হায়াসিসের বরাত দিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি এক ধরনের টর্নেডো। মূলত টর্নেডোর কারণে এ রকমটি হয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ঘটনা সচরাচর কমই দেখা যায়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জল দিয়ে মোড়ানো বাতাসের তৈরি টর্নেডোর ফলে এটি সৃষ্টি হয়। জলভাগের ওপর শক্তিশালী টর্নেডো সৃষ্টি হলে প্রবল বেগে ঘূর্ণমান বায়ুর টানে জলভাগের জল টর্নেডোর কেন্দ্র বরাবর স্তম্ভাকারে ঘুরন্ত অবস্থায় ওপরে উত্থিত হয়। একে জলস্তম্ভ (Water Spout) বলে। তবে গ্রামাঞ্চলে এটি ‘মেঘশূর’ নামে পরিচিত।

দেখতে টর্নেডোর মতো হলেও টর্নেডোর সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য উপাদানে। টর্নেডোতে থাকে বায়ু আর জলস্তম্ভে বায়ুর পরিবর্তে থাকে পানি। জলস্তম্ভ সাধারণত পানিতেই থাকে বলে জনপদে আহামরি ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতে পারে না। আর স্থলভাগের স্পর্শে আসলে এটি গুঁড়িয়ে যায়।

জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা কুতুব উদ্দিন জসিম জানান, এমন দৃশ্য বেশ কয়েক বছর আগে হাকালুকিতে দেখা গিয়েছিল বলে শুনেছি। এরপর এমন ঘটনা আজই শুনলাম। জলস্তম্ভ দ্বারা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি। বিকেলে ঘণ্টাখানেক থেকে পরে অন্ধকারে বিলীন হয়ে যায় এটি।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, আমি বিষয়টির খোজঁ নিচ্ছি। এমনটা হাওর এলাকায় হতে পারে।