সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের গাওয়া রবীন্দ্র সংগীতসহ কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা গানের বিকৃতি ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিকে গণউৎপাত আখ্যা দিয়ে তা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে হিরো আলমকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীত “আমার পরান যাহা চায়” গানটির একটি মিউজিক ভিডিও আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার ও প্রকাশ করেছেন। সেখানে কিছু দৃশ্যে তাকে গিটার হাতে গানটি গাইতে দেখা গেছে। হিরো আলমের গাওয়া গানের কিছু লাইন ও শব্দের সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীত “আমার পরান যাহা চায়” মূল গানটির লাইন ও শব্দের মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত শিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া “আমি শুনেছি সেদিন তুমি” গানটিও হিরো আলম গেয়েছেন, যার কিছু লাইন ও শব্দের সঙ্গে মূল গানটির লাইন ও শব্দের মিল নেই। ইতিপূর্বেও তিনি উগান্ডার সোয়াহিলি ভাষার “মোগোয়া জাগোম্বে” নামে একটি লোকগান করেছেন। সেখানেও মূল গানের সাথে নিজের ইচ্ছামতো নতুন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, এছাড়া তার গাওয়া গানগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কমেন্ট বক্স ভরে গেছে নানারকম নেতিবাচকমন্তব্যে। অধিকাংশ ব্যক্তিই তার নামে বিকৃতভাবে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান এপার-ওপার বাংলার অসংখ্য মানুষের আবেগের জায়গা। সেই আবেগের প্রতি হিরো আলম খুব একটা যত্নশীল হননি বা সুবিচার করতে পারেননি। বরং তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে সরাসরি গানের কথা ও সুরের বিকৃতি ঘটিয়ে চলেছেন।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, গান গাইবার অধিকার সবার আছে, কিন্তু কোনো গান বিকৃতি করার অধিকার কারো নেই। এমন কি গানের বাণিজ্যিক রিমেক বা ব্যবহার করতে গেলেও মূল গায়ক/গায়িকার বা গানের সত্ত্বাধিকারীর অনুমতি নেয়াটাও জরুরি। হিরো আলম মিউজিক ভিডিও নির্মাণের নামে বিকৃত ও অশুদ্ধ বাংলা শব্দ উচ্চারণ, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও দৃশ্য ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার ও প্রকাশ করে গণউৎপাত সৃষ্টি করে অপরাধ করেছেন।

নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হিরো আলমের মিউজিক ভিডিও “আমার পরান যাহা চায়”, “আমি শুনেছি সেদিন তুমি” এবং “মোগোয়া জাগোম্বে” গানগুলোকে গণউৎপাত আখ্যা দিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ওই নোটিশে ভবিষ্যতে মিউজিক ভিডিও নির্মাণের নামে বিকৃত ও অশুদ্ধ বাংলা শব্দ উচ্চারণ, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য পরিবেশন এবং অশালীন পোশাক পরিহিত দৃশ্য ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার ও প্রকাশ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার জন্য তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার জানান, উৎপাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে উপদ্রব, দৌরাত্ম্য, অত্যাচার। এটি এমন এক ধরনের অপরাধমূলক কাজ, যা জনগণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। আরও সহজ করে বলতে গেলে অন্যের ভোগে বা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঘাত ঘটানোর নামই উৎপাত। এটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধ। গণউৎপাত সম্পর্কে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ২৬৮ ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি কর্তৃক জনসম্মুখে এমন কোনও কাজ করা, যার দ্বারা জনগণের বিরক্তি সৃষ্টি হয় এমন কার্য করাকে গণউৎপাত বলে। এছাড়া দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি অন্যদের বিরক্তি সৃষ্টি করিয়া (ক) কোনও প্রকাশ্য স্থানে কোন অশ্লীল কার্য করে অথবা (খ) কোনও প্রকাশ্য স্থানে বা সন্নিকটে কোন অশ্লীল গান, গাঁথা সঙ্গীত বা পদাবলী গায়, আবৃত্তি করে বা উচ্চারণ করে; সেই ব্যক্তি যে কোনও বর্ণনায় কারাদণ্ডে যাহার মেয়াদ ৩ মাস পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।”