মনিরুজ্জামান লেবু, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় প্রায় এক যুগ পর দেশের উত্তর অঞ্চলে প্রথম সেচ প্রকল্পটি পুনরায় চালু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবারে বর্ষা মৌসুমে উত্তর অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকায় জমিতে সেচ প্রদানের উদ্দেশ্যে বুড়িতিস্তা প্রধান সেচ খালে প্রায় ৬ কিঃমিঃ এলাকায় পানি ছাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেচ প্রকল্পের এই পানি পেয়ে কৃষকদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি, এ পানি দিয়ে আমন চারা রোপন করতে পেরে তাদের মুখে ফুটেছে হাসি।

সরেজমিনে গিয়ে প্রধান সেচ খালের দু’ধারে সুবিধা ভোগী কৃষকদের সাথে কথা হলে, খারিজা গোলনা দীঘির পাড় এলাকার কৃষক পরিমল রায় জানান, এবারে আমার ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করার কথা কিন্তু পানির অভাবে করতে পারিনি। এখন ক্যানেলে পানি আসায় জমিতে চারা রোপন করতে পেরে আমি খুব খুশি। একই রকম কথা বলেন, খারিজা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম, কালিগঞ্জ এলাকার কৃষক লিটনসহ আরো অনেকে। তাদের দাবী বোরো মৌসুমেও প্রকল্পটি যেন চালু রেখে এভাবে পানি দেওয়া হয়। এসময় সেচ খালের পানি পেতে উপজেলার ধর্মপাল ও মীরগঞ্জ এলাকা থেকে রশিদুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক কে কালীগঞ্জের সুইচ গেট এলাকায় ভীড় জমাতে দেখা যায়। পানি উন্নয়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, জলঢাকা উপজেলার গোলনা, মীরগঞ্জ, কাঠালী, ধর্মপাল, বালাগ্রাম ইউনিয়ন এবং ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর ও নাউতারা ইউনিয়নে মোট পাঁচ হাজার পাঁচ শত একর জমিতে সেচ প্রদান করার লক্ষে ষাটের দশকে ১২১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয়। যা ২০১০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০ বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুলাই /২১ সেচ প্রকল্পটি পুনরায় চালু করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নীলফামারী পওর বিভাগের উপ-বিভাগীয়
প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পে সরকারের অধিগ্রহণকৃত ১২১৭ একর জমিতে পানি রিজার্ভারের ব্যবস্থা রয়েছে। এবারে বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে খরায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশাংকায় রিজার্ভার থেকে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের পানি ছাড়া হয়েছে । এ প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে, প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ, ভু-গর্ভস্থ পানির স্তরের অধিকতর উন্নতি, জীব-বৈচিত্র রক্ষা ও প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত (৩০ লক্ষাধিক) জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। তবে কিছু স্বার্থনেশী ও প্রভালশালীদের রিজার্ভারের জমি দখল ও আইনী জটিলতার কারনে প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।