নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সড়ক-মহাসড়কে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ ইজিবাইক ও থ্রি হুইলার। গত বছর এসব যানবাহনের কারণে ৩১২ টি দুর্ঘটনায় ৩১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। অথচ নিষেধাজ্ঞার পরও কমেনি এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল। উল্টো ইজিবাইক, থ্রি হুইলারকে নিবন্ধন দিতে যাচ্ছে বিআরটিএ। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থায় এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি।

বুয়েটের গবেষণায় উঠে এসেছে, পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার জনের মৃত্যু ঘটেছে। শুধু গেল বছরই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে তিন হাজার পাঁচশো ৫৮ জনের, আহত হয়েছে চার হাজার ৪১০ জনের। এদের মধ্যে ইজিবাইক, থ্রি হুইলারের কারণে মৃত্যু ঘটেছে ৩১০ জনের, আহত প্রায় চারশো জন। বুয়েট বলছে, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৩৫ থেকে ৪০ ভাগের দায় ইজিবাইক, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন বা থ্রি হুইলারের মতো ইলেক্ট্রিক যানবাহনের।

গত ২০১৪ সালে এসব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট। পরের বছর ২২ টি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু এসবের কোন কিছুই তোয়াক্কা করছে না চালক ও মালিকরা। এমনকি তাদের ঠেকানোরও কেউ নেই।সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ এসব যান নিয়ন্ত্রণে আনতে নিবন্ধন দেয়ার চিন্তা করছে।

বিআরটিএর হিসাবে সারাদেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭০ হাজারের মতো। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ গাড়ি চলছে লাইসেন্সবিহীন চালক ছাড়া। পাশাপাশি অনিবন্ধিত গাড়ি রয়েছে লক্ষাধিক। অথচ এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশ বা বিআরটিএ। এর উপর ইজিবাইক বা থ্রি হুইলারের নিবন্ধন দিলে সড়কে বিশৃংখল পরিস্থিতি আরো বেশি হবে। যা ক্যান্সারের সমতূল্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সামছুল হক বলেন, স্মার্ট, টেকসই, সুন্দর আধুনিক সিটি করতে বাস, এমআরটি, বিআরটিএ ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা হতে হবে। এর পরিবর্তে ছোট ছোট জিনিস চলে আসলে এটা একটা ক্যান্সারাস ডেভেলপমেন্ট হবে। সো এটাকে অনুমোদন দেয়া মানে এই ক্যান্সারাসকে আরো উৎসাহিত করলাম, যা কখনোই কাম্য নয়।

বুয়েটের একসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিচালক মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান বলেন, বিগত দশ বছরে চারশো কিলোমিটার সড়ক চারলেন হয়েছে। এতে গতি বাড়লেও ইজিবাইক, থ্রিহুইলারের মতো ধীর গতির যান সড়কে এলাও করছি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে এসব বন্ধ হবে না। গতির তারতম্য যেখানে হবে সেখানে দুর্ঘটনা হবেই। তবে, বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দাবি, নিবন্ধন পাওয়া গাড়িগুলো আইন মানলে কোন বিশৃঙ্খলা হবে না।

উল্লেখ্য যে, সড়কে আইন না মানার প্রবণতা বেশি, আইন মানাতেও সক্রিয় নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।