নিজস্ব প্রতিবেদক

তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার তিন বছর পূর্ণ করেছে গত ৭ জানুয়ারি। তিন বছরের মধ্যে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হয়নি। প্রথম দুই দফায় তিন বছর মেয়াদী মন্ত্রিসভায় অন্তত দুবার করে বড় ধরনের রদবদল হয়েছিল। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কোনো রদবদল হয়নি। বিভিন্ন সময়ে রদবদলের গুঞ্জন শোনা গেল সেই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত সত্যিতে পরিণত হয়নি। তবে সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, সরকার সামনের দিনগুলোতে মন্ত্রীসভার রদবদলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীসভার রদবদল প্রধানমন্ত্রীর একক এখতিয়ারের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী মন্ত্রীসভা গঠন করেন এবং যেকোনো সময় যেকোনো মন্ত্রী কে বাদ দিতে পারেন বা নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর একক সাংবিধানিক ক্ষমতা। আর এ কারণেই মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কিনা, কবে হবে ইত্যাদি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তবে অনেকেই মনে করছেন যে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক আন্দোলনের চেষ্টা এবং দু’বছরের মধ্যে একটি নির্বাচন এরকম একটি বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীসভার রদবদল করতে পারেন। কারণ মন্ত্রীসভার একটি রাজনৈতিক অবয়ায়ব এখন জরুরি বলেও সরকারের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, সামনের দিনগুলোতে সরকারকে দেশে এবং বিদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে এই তৃতীয় মেয়াদে। বিশেষ করে এই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নীতিতে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোটা বাংলাদেশের জন্য মর্যাদাহানিকর হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭ জন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানেই থেমে নেই, সম্প্রতি জো বাইডেন দুর্নীতির বিরোধী একটি নীতি ঘোষণা করেছেন। যেই নীতিতে বলা হয়েছে যারা নগদ অর্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন তাদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এটি সারা বিশ্বের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য হলেও বাংলাদেশ এর ফলে আক্রান্ত হবে বলে বিভিন্ন মহল প্রচার করছে। সামনের দিনগুলোতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও বাংলাদেশের মানবাধিকারের বিষয় নিয়ে কথা বলবে বলে জানা গেছে। এমনকি যুক্তরাজ্য বাংলাদেশর গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেছে। এরকম বাস্তবতায় বিদেশে পলাতক বিভিন্ন ব্যক্তিরা বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা কে আরো জোরালো করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে যারা বিদেশ থেকে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার করছে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। কিন্তু যে সমস্ত ব্যক্তিরা এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত তাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট এর মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়েছে। এই কারণে এ ধরনের পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে বা যৌক্তিক হবে এ নিয়েও বিভিন্ন মহলের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

 

অনেকেই মনে করেন যে, এখন বিদেশে এসব ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি দেশেও বিএনপি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে গত নভেম্বর মাস থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার দাবিতে বিএনপি বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ করছে, এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা নানা কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছে। এরকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের ভেতর যারা রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের সামনে নিয়ে আসা এবং নির্বাচনের দুই বছর আগে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে জন্য কাজকর্মে গতি সঞ্চারের একটি বিষয় আলোচিত হচ্ছে। এই আলোচনা থেকেই মন্ত্রীসভার রদবদলের কথা শোনা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন পর হয়ত প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার একটি রদবদল করতে পারেন। মন্ত্রিসভায় কয়েকজন রাজনৈতিক মুখকে আনার কথাও শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় মন্ত্রীসভার রদবদলের গুঞ্জন হলেও শেষ পর্যন্ত রদবদল হয়নি। তাছাড়া অনেকেই বলছেন, এখন করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, এরকম পরিস্থিতিতে মন্ত্রীসভার হটাত করে রদবদল নাও হতে পারে। তবে সরকারকে এখন সামনের দিনগুলোতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আর এই কারণেই মন্ত্রীসভার আরো গতিশীল হওয়া দরকার বলে কেও কেও মনে করছেন।