আসিফ কাজল : মা বয়সী বৃদ্ধাটি ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এসে যখন তার স্মৃতি বলতে লাগলেন, তখন নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করছিল। যদিও আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ না। কেন সাংবাদিকরা এই সত্য জিনিসটা তুলে ধরতে পারেনি সেই অনুশোচনা আমার মধ্যে কাজ করছিল। যাই হোক ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সবেক সভাপতি আলাউদ্দীন আজাদের দেওয়া তথ্যমতে প্রেসক্লাবে এসে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর হাতে নিগৃহীত ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা জয়গুন নেছার বক্তব্য শুনলাম। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু ভাই উপস্থিত হলেন। আমরা নিউজ করলাম। ফেসবুকে স্ট্যটাস দিলাম। মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান ভাই নিউজ পড়ে বৃদ্ধার ডকুমেন্টগুলো নিয়ে ঢাকায় জমা দিলেন। ব্যাস ! পক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। জয়গুন নেছার উপর পাক বাহিনীর নিষ্ঠুর পাশবিক নির্যাতনের কথা আমি আর নতুন করে লিখতে চাই না। শুধু এটুকুই বলতে চাই আমাদের প্রচেষ্টা আর লেখালেখির কারণে জয়গুন নেছা মুক্তযোদ্ধ ও বীরঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।সরকার তাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছেন। আমার ভাল লাগার কারণ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া খুশিতে. ঘুরতে ঠেলার মতো নয়। ভাল লাগার কারণ সাংবাদিক হিসেবে আরেকটি স্মরনযোগ্য মাইলফলক তৈরী করা। পাকি বাহিনীর হাতে নির্য়াতিত একজন বৃদ্ধ মাকে স্বাধীনতার এতো বছর পর সাংবাদিকদের কল্যানে সরকার যোগ্য সম্মান দিল সেটাই বা কম কিসের ? ধন্যবাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আপনার পরম মমতার আঁচলে ঠাই পাক এমন নিগৃহীত মানুষ।

লেখক : ঝিনাইদহের সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট