বিশেষ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডু আসনের এমপি তাহাজীব আলম সিদ্দিকী এ কি দেখালেন? উপজেলা নির্বাচনে হরিণাকুন্ডে আ্ওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দারের নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে উত্তেজনাময় বক্তৃতা দিয়ে তিনি একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছেন অন্যদিকে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের করেছেন্ উত্তেজিত -এ সমালোচনা খোদ স্থানীয় আ্ওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই। কেননা ইতোপূর্বে এই হরিণকুন্ডে নির্বাচন নিয়ে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী বজলুর রহমান ও বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে উক্ত নিহতের ঘটনা ঘটে। শংকাটা সেখানেই।

এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, উ্পজেলা নির্বাচনে সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা কোনো নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে এমপিরাও সরকারী সুবিধাভোগী। আর তাই নির্বাচন কমিশন একদিকে যেমন এমপিদের দিক নির্দেশনা দিতে স্বীপারকে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষ্য প্রচার করায় ইতোমধ্যে ছয় এমপিকে এলাকার ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শুধু নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলে ভোট দিতে যেতে পারবেন।

আর ঠিক নির্বাচন কমিশনের এহেন কঠোর সিদ্ধান্তের মধ্যেই এমপি তাহাজীব আলম সিদ্দিকী হরিণাকুন্ডে নির্বাচন জনসভা করলেন। জনসভায় তার ভাষণে উল্লেখ ছিল … ‘আপনাদের কি শক্তি নাই? আপনারা কি আ্ওয়ামী লীগ করেন না? …… তাহলে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে যা যা করার করতে হবে….’ (ভিডিও সংযুক্ত)

শুরু এখানেই।

উত্তেজিত নেতা কর্মী হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রচারণা মিছিলে হামলা চালিয়েছে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা।

এসময় তারা ছাত্রলীগের অফিস এবং ১২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। শনিবার রাত ৯ টার দিকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা আ্ওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, শনিবার রাত ৯ টার দিকে তার প্রতীক মোটর সাইকেল মার্কার নেতাকর্মীরা মিছিল করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে গিয়ে দাড়ায়।

এসময় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দারের সমর্থকরা রামদা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগের অফিস ও তাদের ১২ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে জনগণকে ভীতি সন্তস্ত্র করতে মসিউর রহমান জোয়ার্দ্দার ও তার সমর্থকরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইন। তবে মশিউর জোয়ার্দ্দর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আ্ওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী

কিন্তু ঘটনা কি এখানেই সীমাবদ্ধ?

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপর্ণ করতে আওয়ামী লীগের শিথিল মনোভাবেই কারণেই সারাদেশের আমাদের মতো জনপ্রিয় অনেক ত্যাগি নেতা-কর্মি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। প্রকৃত জনপ্রিয়তা যাচাই করতে দলের এটি একটি পরীক্ষা।

ফেসবুকে জাহাঙ্গীর হোসাইনের নির্বাচনী প্রচার

মোবাইলে তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পেছনে রয়েছে অন্য কাহিনি। ইতোপূর্বে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমি সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঝিনাইদহ সদরে এমপি নিবাচন করেছিলেন। সে সময় আমি হরিণাকুন্ডুর বাসিন্দা এবং ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমাদের দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা পালন করি। তিনি, আক্ষেপ করে বলেন, পরবর্তীতে এমপি সাহেব আ্ওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এখন প্রকৃত আ্ওযামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে সরাতে চান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ছা্ত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুলের একটি উক্তি মনে করিয়ে দেন, ‘ছাত্রলীগ আসলেই এতিম।’