নিজস্ব প্রতিবেদক : ডাকসু নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তেজনা সামলেছেন তাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও মুগ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী দলের সিনিয়র নেতাদের বলেছেন, শুধু ছাত্রলীগ নয়, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সবাই এটাই প্রত্যাশা করে। রাজনীতিতে পাওয়া না পাওয়া বড় বিষয় নয়। জনগণের জন্য ত্যাগ করাই হলো রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, শোভন যদি এই ধারা অব্যাহত রাখে, তাহলে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু জনপ্রিয়ই হবে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।

গতকাল একনেক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে ফলাফল মেনে নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসার নির্দেশ দেন। তিনি জাহাঙ্গীর কবীর নানককে শোভনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। শোভনের সঙ্গে নানক কথা বলেন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও শোভনের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দেন। এরপরই শোভন ক্যাম্পাসে যান এবং ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘটরত ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন বক্তৃতা দেন। তাদেরকে আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে নেতাকর্মীরা আন্দোলন থেকে সরে আসে। এরপর শোভন টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপিকে অভিনন্দন জানান, তাকে আলিঙ্গন করেন এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের পরও যে উদারতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা শোভন দেখিয়েছেন তাতে শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, রাজনৈতিক মহলও এটাকে প্রশংসার চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতাও এরকম সংযম, এরকম ত্যাগ, এরকম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন না যেটা শোভন করে দেখিয়েছেন। কাজেই এই নির্বাচনে শোভন পরাজিত হলেও শোভনের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়েছে।