নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় চার্জগঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ এ এইচ এম রুহুল ইমরান এ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ‘আদালতে আসতে অনিচ্ছুক’ মর্মে কারা কর্তৃপক্ষ তার কাস্টডি আদালতে উপস্থাপন করেন।

সে সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ তালুকদার শুনানিতে বলেন, ‘হয় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অসুস্থ, না হয় কারাকর্তৃপক্ষ তাকে ইচ্ছা করে আদালতে হাজির করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।’

কোনো বন্দীর অনুপস্থিতিতে চার্জগঠনের শুনানি আইন সংগত না হওয়ায় বিচারক শুনানি শেষে চার্জগঠনের নতুন তারিখ ঠিক করেন।

এর আগে একই আদালত খালেদা জিয়াকে ১৩ মার্চ আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছিল।

মামলার অপর আট আসামি হলেন-এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মইনুল আহসান, বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি ব্যবস্থাপনার নিয়োজিত ঠিকাদর সুজু কোল মাইনিং গ্রুপ কনসোর্টিয়ামের পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান ভূইয়া, সাইফুর রহমান, এম কে আনোয়ার ও এম শামসুল ইসলামও আসামি ছিলেন। তারা মারা গেছেন।

প্রসঙ্গত,বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সময় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।

কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছিল খালেদা জিয়ার সরকার। আর সিএমসির সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে এ মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়।