স্পোর্টস ডেস্ক : ফের ম্যাজিসিয়ান রূপে আবির্ভূত হলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখালেন জাদু। নিজে করলেন ডাবল গোল। পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলে করলেন অ্যাসিস্ট। তার আলোয় অন্ধকারে ডুবল লিওঁ। মেসি ম্যাজিকে ফরাসি দলটিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বার্সেলোনা।

শেষ ষোলোর প্রথম পর্বে লিওঁর দূর্গ থেকে রিক্ত হস্তে ফিরতে হয় বার্সাকে। দুই দলের সেই লড়াই হয় গোলশূন্য ড্র। এবার নিজেদের ডেরায় পেয়ে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করলেন কাতালানরা। বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে শুরু থেকেই ছন্দময় ফুটবল খেলেন তারা। ১৭ মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে লিড এনে দেন মেসি। তারই বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢোকা লুইস সুয়ারেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পানেনকা শটে বল জালে জড়ান বন্ধু।

এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বার্সা। দাগাতে থাকে একের পর এক আক্রমণ। সেই রেশের মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ে ফিলিপে কুতিনহোর পায়ে মাথায় আঘাত লাগে লিওঁ গোলরক্ষক অঁতনি লোপেজের। এতে বেশ কিছুক্ষণ মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। পরে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু স্বাভাবিক হতে পারেননি। সেই সুযোগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুতিনহো। সুয়ারেজের পাস ধরে নিশানাভেদ করেন তিনি। এরপর ভীষণ অসুস্থবোধ করায় ৩৪ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অঁতনি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিওঁ। গোলও পেয়ে যায় দলটি। ৫৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বার্সার ডি-বক্সে উড়ে আসা বল ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান লুকা তুজা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে নিচু শটে ব্যবধান কমান তিনি।

পরে প্রতিপক্ষ শিবিরে আক্রমণের ঢেউ তোলে বার্সা। মুহুর্মুহু আক্রমণে লিওঁকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন মেসিরা। ফলে ফের সাফল্য পান তারা। ৭৮ মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে স্কোরলাইন ৩-১ করেন মেসি। সার্জিও বুসকেটসের পাস পেয়ে ডি-বক্সে এক ঝটকায় দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের চলতি আসরে এটি তার অষ্টম এবং সবমিলিয়ে ১০৮তম গোল। আর ঘরের ভেন্যুতে ৬১ ম্যাচে ৬২তম। এ নিয়ে টানা ১১ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫টি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

বাকি সময় চলেছে বার্সার একচেটিয়া আধিপত্য-দাপট। পরক্ষণে দৃশ্যপটে ফের মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে জেরার্ড পিকেকে পাস দেন তিনি। ছুটে এসে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন সতীর্থ। পাঁচ মিনিট পর আবারও মেসি জাদু। এবার মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে উসমানে ডেম্বেলেকে পাস বাড়ান তিনি। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ঠিকানায় বল পাঠান কুতিনহোর বদলি নামা এ ফরোয়ার্ড।

এতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্নেস্তো ভালভার্দের শিষ্যরা। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে হোমগ্রাউন্ডে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত (২৭ জয়, তিন ড্র) থাকলেন তারা। বিশ্বসেরা ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় যা একটি রেকর্ড।