নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গের হামলায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা দুজন বলে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ঘটনার পরদিন শনিবার ঢাকায় কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডি ক্যাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে এক ব্যক্তির ওই হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হন, আহত হন অনেকে।

নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বলে শুক্রবার জানিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, তখন তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী বিভিন্নজনের কথার সূত্র ধরে ওই তথ্য দেওয়া হয়েছিল, এখন দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহত দুজন হলেন কৃষিবিদ ড. আবদুস সামাদ ও হুসনে আরা পারভীন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক সামাদ ক্রাইস্টচার্চের লিংকন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছিলেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা গ্রামের নুরুদ্দিনের মেয়ে পারভীন স্বামী ফরিদ উদ্দিনসহ কয়েক দশক ধরে ক্রাইস্টচার্চে ছিলেন।

নিহত বাংলাদেশিদের পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অকল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল শফিকুর রহমান ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের দুজন কর্মকতা ক্রাইস্টচার্চে গেছেন।

শাহরিয়ার বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনজন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতালে আহত অবস্থায় রয়েছেন আরও পাঁচজন।

নিখোঁজরা হলেন- মোজাম্মেল হক, জাকারিয়া ভইয়া ও শাওন।

হাসপাতালে ভর্তি আছেন লিপি, মুনতাসীম, শেখ হাসান রুবেল, শাহজাদা আক্তার ও ওমর ফারুক।

এদের মধ্যে লিপি ও মুনতাসীমের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাইস্টচার্চে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা সব মিলয়ে পাঁচশর বেশি হবে না। যে কোনো তথ্য বা সাহায্যের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে সবাইকে।

জরুরি যোগাযোগের জন্য +৬১ ৪২৪ ৪৭২৫৪৪ এবং +৬১ ৪৫০১ ৭৩০৩৫ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে হাই কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে।

২৮ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে। প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে। ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।