নিজস্ব প্রতিবেদক : এক বছর তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান বাসায় ফিরেছেন। তিনি সুস্থ আছেন। তার পরিবার ও পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শনিবার ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনেছি মারুফ জামান বাসায় ফিরেছেন। আমাদের কর্মকর্তারা তাদের বাসায় গেছেন।’

এদিকে মারুফ জামানের মেয়ে শবনম জামান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার বাবার ফিরে আসা নিয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা সাড়ে ১৫ মাস বা ৪৬৭ দিন পর ফিরে এসেছেন। আমি ও আমার বোন কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, যারা এই সময় আমাদের সহযোগিতা করেছেন।’ তিনি তার স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে আর কিছু না জানতে চাইতে সবাইকে অনুরোধ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি আর বেশি কিছু বলবেন না বলেও সেখানে জানিয়ে দিয়েছেন।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টার পর অপহরণকারীরা তার পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দেয়। তারপর তিনি সিএনজিতে করে তার ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের বাসায় ফেরেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছে না পরিবার।

২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ বাসা থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন মারুফ জামান। এ ঘটনায় পরদিন দুপুরে তার মেয়ে সামিহা জামান ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিটি থানা পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করেছে। এই ১৫ মাস তদন্ত করে পুলিশ তার কোন হদিস দিতে পারেননি বলেও কয়েকদিন আগে জানিয়েছে।

মারুফ জামান বিমানবন্দরে মেয়েকে আনতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাসার ল্যান্ড ফোনে ফোন করেন। তিনি জানান, কয়েকজন লোক বাসায় যাবেন। তারা তার ব্যবহূত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়ে যাবেন। এর কিছুক্ষণ পরই কালো টি-শার্ট পরা সুঠামদেহী তিন লোক বাসায় এসে ফোন, ল্যাপটপসহ প্রযুক্তি ব্যবহারের জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যায়। তাদের মাথার টুপি নাক পর্যন্ত নামানো ছিল। ফলে ফুটেজ দেখে তাদের চেহারা পুলিশ বুঝতে পারেনি।

মারুফ জামান রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৮ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ধানমন্ডির বাসা থেকে প্রাইভেটকারে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। মেয়েকে আনতেই তিনি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মারুফ জামানের ব্যক্তিগত গাড়িটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৩০০ ফুট সংযোগ সড়ক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর নিখোঁজ মারুক জামানের ছোট ভাই রিফাত জামান বলেছিলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না আসলে কী হচ্ছে? আমার ভাই নিজেই ড্রাইভ করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তিনি দুর্ঘটনায় পড়েছেন- এমন আশঙ্কা করেছিলাম প্রথমে। এখন তো অন্য কিছু মনে হচ্ছে। লোকজন বলাবলি করছে, ফোর্স ডিজ-অ্যাপিয়ারেন্স হতে পারে। কিন্তু আমার ভাই তো কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তও নন।’