নিজস্ব প্রতিবেদক : যথাযোগ্য মর্যাদা আর নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হচ্ছে আজ। সারাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবেই দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জীবিতকালে কখনও মুজিবনগরে যাননি। তিনি কেন কখনো মুজিবনগরে যাননি সেটা নিয়ে অনেকরকম রহস্যও রয়েছে।

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, বঙ্গবন্ধুকে যে মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল সেটা তিনি পছন্দ করেননি। এটার প্রমান পাওয়া যায়, যখন তিনি ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পরেই ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে দেন। এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণ করেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সারা জীবন বঙ্গবন্ধু সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন।

মুজিবনগর সরকারে কৌশলগত কারণেই বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল এবং তাজউদ্দীন হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য হয়তো বঙ্গবন্ধু কখনো মুজিবনগর যাননি।

দ্বিতীয় একটি গুঞ্জন আছে যে, তাজউদ্দীন আহমেদ যখন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকার গঠন করেন, তখন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতারা এর বিরোধিতা করেছিলেন। এরমধ্যে আ. স. ম. আব্দুর রব, শেখ মনি, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদের মতো ছাত্রনেতারা ছিলেন। মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা খুব একটা শক্ত ছিল না। বরং তারা মুজিবনগর সরকারের সমালোচনাও করেছিলেন। তারা নিজেরাই আলাদা একটা ফোর্স গঠন করে পৃথক অবস্থান নিয়েছিলেন। যেকারণে মুক্তিযুদ্ধের পরেও তাজউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে ছাত্রলীগের একটা দ্বৈরথ এবং দ্বন্দ্ব সবসময়ই দৃশ্যমান ছিল। এই বিরোধটাকে এড়ানোর জন্যই হয়তো জাতির পিতা কখনো মুজিবনগরে যাননি।

জাতির পিতার সঙ্গে তাজউদ্দীনের একটি দুরত্ব যে ছিল, মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধুর না যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছিল। এই দূরত্বের কারণেই পঁচাত্তরে মোস্তাকদের জন্য জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করাটা অনেক সহজ হয়ে পড়েছিল, তা বলা অপেক্ষা রাখে না।