ডেস্ক : জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মিলা ইসলাম। ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন বৈমানিক পারভেজ সানজারিকে। কিন্তু সানজারির নানা জালিয়াতে অতিষ্ট হয়ে মিলা তাকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মিলা সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিলা ইসলাম। বিচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিলা এবং পারভেজ একে অপরকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন মিলা। পাঠকদের জন্য মিলার সেই স্ট্যাটাসের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-
একজন ব্যক্তি যখন নিজেকে আইনের উর্ধে ভেবে সীমাহীন বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যখন তাকেই অনৈতিকভাবে আশকারা দিতে থাকে কিছু মহল, তখন নিশ্চয়ই বিবেকবান যে কেউ প্রতিবাদী হবেই। প্রতিটি সমাজেই একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি আছে। আধুনিকতা মানুষকে শুধু অগ্রসারয়মান হতেই শেখায় না, আধুনিকতা মানুষকে শিষ্ঠাচারী হতেও সাহায্য করে। ইংরেজিতে ফ্যামিলী ভেল্যুজ বলে একটা শব্দ আছে যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় পারিবারিক মূল্যবোধ। আমাদের সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ বিরাজমান বলেই আমরা একটি নির্দিষ্ট প্রথার ভেতর বসবাস করি। আর একারণেই সমাজ অজস্র মন্দ বিষয় থেকে মুক্ত থাকে।

প্রতিটি বিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে একে-অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হওয়া একান্তই আবশ্যিক। এটা না থাকলে পারিবারিক মূল্যবোধ ভেঙ্গে পড়বে ধ্বংস হয়ে যাবে সমাজ। আর এর ফলে আক্রান্ত হবে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা। বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি এমন অঙ্গীকার যা আজীবন স্বামীস্ত্রী রক্ষা করেন যে কোনও কিছুর বিনিময়ে। আমাদের মতো পুরুষ শাসিত সমাজে সবামী-স্ত্রীর মাঝে দাম্পত্য বোঝাপড়া এবং সুখ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুরুষ বা স্বামীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। কোনও কারণে যদি ওই স্বামীই হয়ে ওঠে দূরাচারী, সে যদি নিজের স্ত্রীর মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করে ক্রমাগতভাবে প্রিয়তমা স্ত্রীকেই প্রবঞ্চিত করতে থাকে যদি স্ত্রীর অজ্ঞাতে জড়াতে থাকে একের-পর-এক পরকীয়ায়, তাহলে ওই দম্পতির, বিশেষ করে স্ত্রী’র মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়, সেটা আপনারা সবাই জানেন এবং বোঝেন। আমাদের এই দেশে প্রতিনিয়ত স্বামীদের এধরণের অন্যায় আচরনের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এসিডে ঝলসে দেয়া হচ্ছে প্রবঞ্চিতা স্ত্রীদের নারীদের। সভ্যতার এই সময়ে এসে এমন জঘন্য পরিস্থিতির কষ্ট শুধু ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

আপনারা জানেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে অকৃত্তিম ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকার পর আমি এস এম পারভেজ সানজেরী ওরফে লেলিন-কে ২০১৭ সালে বিয়ে করি। কিন্তু আমি হতবাক হয়ে লক্ষ করি, যার সাথে আমার এক যুগেরও বেশী সময় প্রণয় ছিলো, সে-ই কেমন যেনো অচেনা আচরণ করতে থাকে। সে প্রায়ই বিভিন্ন লোকের সাথে লুকিয়ে-লুকিয়ে ফোনে কথা বলতো। আমি জানতে চাইলে সে শুধু মারমুখীই হতোনা বরং নিয়মিতভাবেই আমার ওপর চালাতো অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।ৎৎ

বিয়ের পর আমি আরো জানতে পারি, আমার স্বামী, যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর ইউএস বাংলা এয়ার নামীয় একটি বেসরকারী বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কর্মরত আছে, সে নিয়মিতভাবেই এয়ারলাইন্সের নারী ষ্টাফ এমনকি বিমানবালাদের শয্যাসঙ্গিনী হতে বাধ্য করতো কিংবা ওদের সাথে প্রেমের ভান করে শয্যাসঙ্গিনী করতো, যা এখনও থেমে যায়নি। সানজেরীর নষ্ট লালসা থেকে ইউএস বাংলা’র কোনও নারী সদস্যই রেহাই পাননি। আমার কাছেই এধরণের অজস্র প্রমাণ আছে, যা প্রবঞ্চিত-প্রতারিতরাই বিভিন্ন সময়ে পাঠিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়। সানজেরী মিডিয়ার অনেক অভিনেত্রী ও কন্ঠশিল্পীদেরও মিথ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নষ্ট করেছে এবং এখনও করছে। আবার এমন কিছু বিতর্কিত অভিনেত্রীও আছে, যারা টাকা কিংবা অন্য কিছুর লোভে ইচ্ছে করেই সানজেরীর সাথে সম্পর্ক গড়েছে ; দৈহিক মেলামেশাও করেছে এবং এখনও করছে। আমি জানিনা, ওইসব অভিনেত্রীদের স্বামীরা ঠিক কোন পর্যায়ের নির্লজ্জ নাকি ওনারা অসহায় সেটাও জানিনা। তা না হলে, নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার কথা এমনকি ওই পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার ঘটনা জানার পরও ওরা কেনো নিশ্চুপ আছেন আমি বুঝিনা। কখন-কখনো আমার এমনটাও সন্দেহ হয়, ওইসব স্বামী নামধারী কূলাঙ্গারগুলো হয়তো ওদের অভিনেত্রী স্ত্রীদের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেই ব্যবহার করছেন। হয়তো আমার অনুমান ভুল নয়।

এস এম পারভেজ সানজেরী ওরফে লেলিন-এর অর্থ লিপ্সা সম্পর্কে আমি আগেই বলেছি। তার বাধহীন নৈতিক চরিত্র সম্পর্কেও অনেক কথাই আগে বলেছি, যদিও আমার কাছে বলার মতো আরো অজস্র প্রমাণ আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের প্রতি আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। একজন ক্যাপ্টেন এবং বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার হওয়ার সুবাদে সানজেরীর বিমান বন্দরের অতি স্পর্শকাতর এলাকাসহ সেনানিবাস এলাকায় অবাধ বিচরণ আছে। সে কিছু সেনা অফিসারের স্ত্রী’র সাথেও অনৈতিক কার্যকলাপ করেছে বলে ভূক্তভোগীদের কেউকেউ আমাকেই জানিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তি কেবলমাত্র সেনানিবাসগুলোয় বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্যেই ক্ষতিকর নয় বরং এমন অর্থলোভী নৈতিকতা বিবর্জিত ব্যক্তিকে দিয়ে যেকোন ধরণের ভয়ঙ্কর কাজ করানোও অসম্ভব নয়। সে এমনকি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ খোদ ভিভিআইপিদের জন্যেও যেকোনো সময় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ বিষয়টি এরই মাঝে আমি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি। এখন এটা আর কেবলমাত্র আমার ব্যক্তিগত ইস্যু নয়- বরং নিঃসন্দেহে এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়।

আমার নিজের জীবনের ওপর হুমকি আছে। সানজেরী নিজেই মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমায় হুঁশিয়ার করেছে সে তার নিজের অস্ত্র দিয়ে যখনতখন আমায় হত্যা করবে। একথাটা সে আমার সাবেক সেনা অফিসার বাবা-কেও জানাতে দ্বিধা করেনি।

এতো কিছুর পরও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অন্যায় হুমকির কাছে মাথা নত করবো না। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।