বিশ্বকাপ ট্রফি থেকে মাত্র এক হাত দূরে মাশরাফি বিন মুর্তজা! আজ আইসিসির আয়োজনে বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক একসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল সংবাদমাধ্যমের।

মঞ্চের ঠিক মাঝখানে রাখা ট্রফি। তার পাশের সোফায় বসে মাশরাফি। একই আসনে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসি। বাকি সব অধিনায়কের মতো মাশরাফির দিকেও বেশ কিছু প্রশ্ন গেল।

আয়েশ করে সে সবের উত্তর দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বললেন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা।


একটি মজার প্রশ্ন ছিল ১০ অধিনায়কের উদ্দেশে। যদি একজন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ থাকত, কাকে নিতেন। মাশরাফি বলেছেন বিরাট কোহলির কথা। এ সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান। চাপের মুখে নিজের সেরাটা খেলেন। একজনকে নেওয়ার সুযোগ থাকলে মাশরাফি কোহলিকেই নিতেন।


এউইন মরগান বলেছেন, এখনকার কোনো ক্রিকেটার নয়, সুযোগ থাকলে তিনি রিকি পন্টিংকে নিতেন, দুবারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের দলটার সংস্কৃতির ভক্ত ছিলেন বলে। কোহলি বলেছেন, ‘প্রশ্নটার জবাব দেওয়া কঠিন। নিজেদেরই যথেষ্ট ভালো মনে করি আমরা। একজনকে যদি নিতেই হয়, এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যেই কি নিতে হবে? আমি এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথাই বলতাম, কিন্তু ও তো অবসর নিয়ে নিয়েছে। হুম, ফাফ ডু প্লেসিকে নিতাম। আমার ভালো বন্ধু।’


সরফরাজ এক কথায় জবাব দিয়েছেন, তিনি নিতেন জস বাটলারকে। জেসন হোল্ডার ও গুলবাদিন নাইব প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে গেছেন। মাশরাফি কোহলির দিকে আঙুল দিয়ে বলেছেন, কাকে চান। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেছেন, তিনি চান কাগিসো রাবাদাকে।

রাবাদার মতো খেলোয়াড় শুধু বল হাতে নয়, দলেও কতটা ‘এনার্জি’ নিয়ে আসে বলেছেন। তাঁর চোখে রাবাদা ‘সুপারস্টার’। ফাফ ডু প্লেসি বলেছেন জসপ্রীত বুমরা ও রশীদ খানের কথা। কোহলি তাঁকে নিতে চাইল, কিন্তু তিনি কোহলির কথা বললেন না! উপস্থাপকের মজায় একটু বিব্রত হয়েই ডু প্লেসি বললেন, ‘বিরাটকে তো আমি ব্যাটিং দলে নিতাম, আমি বলছিলাম বোলারদের কথা।’


লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে বলেছেন, তিনি নিতেন বেন স্টোকসকে। আর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন রশীদ খানের কথা।
তবে নিজের বিশ্বকাপ দল নিয়েই যে মাশরাফি খুশি, তাও জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমাদের দলে একগাদা ভালো ক্রিকেটার আছে।

বেশ কজন সিনিয়র ক্রিকেটারের পাশাপাশি তরুণেরাও উঠে আসছে যারা সবখানেই দারুণ ক্রিকেট খেলছে। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য মিলিয়ে দারুণ মিশেল আছে আমাদের দলে। আয়ারল্যান্ডে হয়ে যাওয়া গত সিরিজেও সবাই ভালো খেলেছে। আশা করছি বিশ্বকাপটাও ভালোভাবে শুরু করতে পারব। ২ জুন ফাফের (দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের দিকে তাকিয়ে) দলের বিপক্ষেই তো আমাদের শুরু। আশা করছি ভালো শুরুই হবে।’


উপস্থাপক কথা কেড়ে নিয়ে প্রোটিয়া অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘উইল দে, ফাফ?’ ডু প্লেসির ত্বরিত জবাব, ‘আই হোপ নট।’
বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা মানসিক পরিবর্তন যে দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে জানতে চাইলেন উপস্থাপক। বললেন, যেকোনো দলকে যে হারাতে পারে, এই বিশ্বাসটা তো গত বিশ্বকাপের পর থেকেই হয়েছে?

মাশরাফি বললেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেকোনো দিনে যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে। আর আমাদের মতো দলের ক্ষেত্রে যেটা হয়, ভালো একটা শুরু পেলে আমরা সেটার ফায়দা তুলে নিতে জানি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে যেকোনো দলকে হারাতে পারি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ভালো শুরুর ওপর।’


বিশ্বকাপ তো একদমই কাছে। মাশরাফি কি একটু ‘নার্ভাস’। ২০০৩ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা মাশরাফি বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা তো নতুন কিছু নয়। বাকিরাও নিশ্চয়ই একই কথা বলবে। সবকিছু মানসিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বকাপ একদম কাছে। মানসিকভাবে কীভাবে নিজেকে তৈরি করছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর গুরুত্বপূর্ণ ভালোভাবে শুরু। বিশ্বকাপের তো একদমই বাকি নেই। আমরা রোমাঞ্চিত।’


১ ঘণ্টার অনুষ্ঠান শেষে ফাফ ডু প্লেসির সঙ্গে রসিকতা করতে করতে বেরিয়ে গেছেন মাশরাফি। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।