সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল : গত ২০১০ সালে একবার আমার থাইল্যান্ড ভ্রমনের সুযোগ হয়েছিল। ভ্রমন করার সময় অত্যান্ত আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করি, রাস্তায় অনেক জ্যাম বর্তমানে আমাদের দেশে যেমন ট্রাফিক জ্যাম তখনই থাইল্যান্ড-এ প্রচুর ট্রাফিক জ্যাম। সিগনাল যখন থামে রাস্তায় সারিবদ্ধ গাড়ীর ফাকে ফাকে মোটরসাইকেল সুশৃঙ্খল ভাবে দাঁড়িয়ে যায়, আবার সিগনাল ছেড়ে দিলে সবার আগে মোটরসাইকেল-বহর চলে যায় অন্য সকল বাহন তাদেরকে বিশেষ সুযোগ দিয়ে দেয়। বহরের বড় একটা অংশ এক ধরণের হাফ জ্যাকেট পরা। এই হাফ জ্যাকেট পরা মোটরসাইকেল চালকদের প্রায়শই চোখে পড়ায় আগ্রহ নিয়ে খেয়াল করতেই দেখি তারা আসলে ভাড়ায় চালিতমোটরসাইকেল চালক আর হাফ জ্যাকেটের গায়ে চালকের নাম এবং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখা রয়েছে। তবে কোন এপ্স ভিত্তিক নয়, যাত্রী-চালকের সম্পূর্ণ সৌহার্দ পূর্ণ দর-কষাকষি করে চলছে তারা।

এখন থেকে অনেক বছর আগে থেকেই থাইল্যন্ড সহ কিছু দেশে রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেল রাস্তায় চলতে দেখা গেলেও আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা সহ দেশের বড় শহরগুলোতে শুরু হয়েছে রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেল সার্ভিস। তখনই আমার মাথায় আসে, আমরা আসলে অন্য দেশের চেয়ে কতটা পিছিয়ে আছি।যাইহোক দেরীতে হলেও চালু হওয়া এই সার্ভিসে যাত্রীর যেমন উপকার হচ্ছে তেমনি চালকও তার আয়ে যোগ করছেন এই বারতি আয়। গ্রাম-গঞ্জেও আছে এই সার্ভিস তবে এপ্স ভিত্তিক নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেল দ্বারা সংগঠিত এপ্স বহির্ভুত ( উবার, পাঠাও, সহজ ইত্যাদি এপ্স) যাত্রী পরিবহন, ভাড়া সঙ্ক্রান্ত ঝামেলা, মহিলা যাত্রী হয়রানি, অনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি, ছিনতাই, মাদকদ্রব্য পাচার, মদ, গাজা, ইয়াবা বিক্রয়-সরবরাহ সহ সার্বিক নিরাপত্তা বিনষ্টসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপদ বাহন হিসেবে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে স্থান পেয়েছে।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, প্রতিদিন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা যেমন বাড়ী থেকে বেড়িয়ে সারাদিন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে রাতে বাড়ী ফিরেন তেমনি একজন ব্যক্তি মালিকাধীন মোটরসাইকেল চালকও প্রতিদিন তার চাকুরি কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শহর সহ জনপদে নিজস্ব এবং ভাড়ায় চালিত দুই ধরনের মোটরসাইকেল চালক থাকায়, কারা ঠিক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আর কারা ব্যক্তি মালিকানাধীন মোটরসাইকেল চালক তা বোঝা সত্যি কঠিন।

আর এই উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালকদের নাম ও নম্বরযুক্ত ড্রেসকোড হওয়া দরকার বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। ড্রেসকোডে নাম ও নম্বর থাকার কারণে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের। ফলে অপরিচিত ব্যক্তি মালিকানাধীন মোটরসাইকেল চালককে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ভেবে কেউ সিগনাল (ইশারা) দিয়ে থামতে বলবে না, তখন যাত্রী-চালক কাউকে আর বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না। আবার নম্বরযুক্ত ড্রেসকোড পরিধান করা বাধ্যতামুলক করা হলে সমাজে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধা নিয়ে যারা অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন তাদের দৌরাত্বও কমবে। মোটরসাইকেল চালকের দ্বারা কোন যাত্রী হয়রানী কিম্বা অপরাধ সংগঠিত হলে পুলিশ কিংবা যাত্রীর জন্য অভিযোগ জানাতে ও সহজেই সনাক্ত করতে সক্ষম হবে । এ ছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঝটিকা গিয়ে কোন অপরাধ করতে সাহস পাবে না অপরিচিত কোন সংঘবদ্ধ চক্র। এছাড়া চালকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেও নাম ও নম্বরযুক্ত ড্রেসকোড ব্যবহারের পরামর্শ অভিজ্ঞ মহলের। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের নম্বরযুক্ত ড্রেসকোড করার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন সময় ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকদের নিখোঁজ বা দুরঘটনায় পতিত হওয়া এবং অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়া নিয়ন্ত্রনে নম্বরযুক্ত ড্রেসকোড কার্যকরী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।