নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ‘বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ কৌশলে থানায় ডেকে এনে দুই সন্তানের মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে। আহত নারী ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর আজ বিকেলে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঞার নির্দেশে ধুনট থানায় কর্মরত এএসআই শাহানুর রহমানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে থাকেন। বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকানের আয় দিয়ে চলে তার সংসার।

এএসআই শাহানুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। তিনি ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাকরি করতেন। সেই সময় ওই নারীর দোকানে প্রতিদিন খাবার খেতেন তিনি। সেই সুবাদে তার সঙ্গে শাহানুরের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তখন থেকে ওই নারীর বাসায় অবাধ যাতায়াত ছিল এএসআই শাহানুরের। সেই সময় শাহানুর কৌশলে ওই নারীর থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এতে ওই নারীর সঙ্গে শাহানুরের সম্পর্কে ফাটল ধরে।

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে পাওনা টাকা চেয়ে শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেন ওই নারী। কিন্তু উকিল নোটিশে সাড়া দেননি এএসআই শাহানুর। ফলে বগুড়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেন তিনি। এই খবর পেয়ে এক সপ্তাহ আগে শাহানুর রহমান ওই নারীকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসেন। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহানুর রহমান পিটিয়ে থানা থেকে ওই নারীকে বের করে দেন। আহত নারী ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানেও তাকে পেটাতে থাকেন এএসআই শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, ‘শাহানুর কৌশলে আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই টাকা চাইলে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি। আর এ জন্য সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সে আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিই। বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার কৌশলে থানায় ডেকে এনে আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে।’

এ বিষয়ে পুলিশের এএসআই শাহানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষে ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছি।’

এই খবর পেয়ে বগুড়ার সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত নারীর চিকিৎসার খোঁজ নেন। বিকেলে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছিল।

এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।