নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ের পাল্লা ছিল ভারী। কয়েক মাসের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হন।

গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কথা থাকলেও অনুষ্ঠিত হয় পাঁচটিতে। একটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদের দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যালট ভুল ছাপা হওয়ায় গত বুধবার রাতে নির্বাচন স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নে মোস্তফা সেলিম, চর নিলক্ষীয়ায় ফাকরুল ইসলাম ওরফে রতন। এ ছাড়া খাগডহর ইউপিতে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে নান্নু ও দাপুনিয়া ইউপিতে চশমা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বিজয়ী হন। একমাত্র ভাবখালী ইউপিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুস ছাত্তার ওরফে সোহেল। ব্যালট ভুল ছাপার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয় সিরতা ইউনিয়নে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, চারটি ইউপিতে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে দলীয় সমন্বয়ের অভাব। ওই চার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তেমন সমন্বয় ছিল না। দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর প্রচার-প্রচারণা চালালেও তাঁরা কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হন।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, চারটি ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। একজন প্রার্থী সরাসরি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন।

গত মার্চে ময়মনসিংহের ১২টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এবং বাকি সাতটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন, দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের সমন্বয় ছিল না। যে কারণে চারটি ইউপিতেই দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে কাজ করতে হবে।