নিজস্ব প্রতিবেদক : গায়ক-লেখক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব শান্তনু বিশ্বাস মারা গেছেন।

শুক্রবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে তার।

সংস্কৃতিকর্মী কামরুল হাসান বাদল জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে বেলা ৩টার দিকে মারা যান শান্তনু বিশ্বাস।

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ শান্তনু বিশ্বাস দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ ইস্পাহানী শিল্প গোষ্ঠীর চিফ অপারেটিং অফিসার ছিলেন।

তিনি টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সভাপতিও।
শিল্পী শান্তনু বিশ্বাসের চারটি একক ও দুটি যৌথ অ্যালবাম রয়েছে। তিনি দেশে ও দেশের বাইরে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন সময়ে।

শান্তনু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৫৪ সালে। থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নাটক লেখা, অভিনয় ও নির্দেশনা শুরু করেন। শুরুতে যুক্ত ছিলেন গণায়ন ও অঙ্গন থিয়েটার ইউনিটের সঙ্গে।

পরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কালপুরুষ নাট্য দল। মুক্তিযুদ্ধের ওপর তার রচিত ভিন্ন আঙ্গিকের নাটক ‘ইনফরমার’ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে অভিনীত হয়।

তার লেখা অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে, কালো গোলাপের দেশ, নবজন্ম, দপ্তরী রাজ দপ্তরে, নবজন্ম, ভবঘুরে ও নির্ভার।

তিনি বিভিন্ন সময়ে নাটক নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে জুলিয়াস সিজারের শেষ সাত দিন, মানুষ ও নিয়তি, মৃণালের চিঠি উল্লেখযোগ্য নাটক।

তার লেখা নাটকের নাম নাট্যত্রয়ী। খোলাপিঠ নামে তার একটি গানের বইও প্রকাশিত হয়।
শান্তনু বিশ্বাসের স্ত্রী শুভ্রা বিশ্বাসও নাট্যশিল্পী ও নাট্যনির্দেশক।

কবি কামরুল হাসান বাদল জানান, শান্তনু বিশ্বাসের মরদেহ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হবে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টায় নিয়ে যাওয়া হবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে।

বিদেশে থাকা দুই মেয়ে দেশে ফিরে এলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।