এই আমার দেশ ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ একটি প্রচলিত সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ হলে কখন ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, এ বিষয় কথা বলেছেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ওষুধ তাহলে কখন আপনারা দেন?

উত্তর : আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে। তাকে ভালো করে ইতিহাস নিতে হবে। তার পরিবারে কারো রয়েছে কি না, বংশে রয়েছে কি না, জানতে হবে। মা-বাবার থাকলে হওয়ার আশঙ্কা কিন্তু বেশি থাকে। এ ছাড়া কিছু বিষয় তাকে সচেতনভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে। ধূমপান করে কি না, এটি দেখতে হবে। ওজনটা দেখতে হবে। যাদের ওজন বেশি তাদের কিন্তু রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে। এরপর তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না, দেখতে হবে। পিল যারা খায়, তাদের হতে পারে। অথবা যারা অনেকদিন ব্যথানাশক ওষুধ খায়, তাদেরও কিন্তু হতে পারে। যারা অলস জীবন যাপন করে, কোনো ব্যায়াম নেই, শারীরিক পরিশ্রম নেই, এ জিনিসগুলো কিন্তু আপনাকে বুঝে নিতে হবে, ওষুধ দেওয়ার আগে। যদি রোগীর ইতিহাস নিয়ে এগুলো পেয়ে যান এবং একবার হঠাৎ করে ব্লাড প্রেশার একটু বেশি পেলে একে কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয় না। রোগী দৌড়ে আমার চেম্বারে হেঁটে উঠল, প্রেশার কিন্তু পেতেও পারেন। বিশ্রাম নিয়ে আবার দেখেন, শুইয়ে নিতে পারেন। পর পর তিন দিন পর্যন্ত দেখেন, যদি সবসময় বেশি পান, তখন ধরে নিতে পারেন তার উচ্চ রক্তচাপ হতেও পারে। সুতরাং একবার পেলে কিন্তু তাকে উচ্চ রক্তচাপ ধরে নেওয়া যাবে না। নিশ্চিত হয়ে এরপর নিতে হবে। এরপর যেসব কারণের কথা বললাম, এগুলো কমাতে পরামর্শ দিতে হবে। যেমন তার ওজন বেশি থাকলে সেটি কমাতে হবে। নিয়মিত হাঁটা চলার অভ্যাস থাকতে হবে। ভালোভাবে ঘুমাতে হবে। দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এগুলো কমাতে হবে। ধূমপান বন্ধ করতেই হবে। মেয়েদের বেলায় বললাম পিলের কথা, এটা বন্ধ করতে পারেন। ব্যথানাশক ওষুধ খেলে এগুলো বন্ধ করতে পারেন। এগুলো করে দেখতে পারেন। দেখে যদি মনে হয়, প্রেশার কমছে না, তখন অন্য কিছু ভাবতে হবে। এর মধ্যেও কিছু পরীক্ষা করা লাগতে পারে।

প্রশ্ন : কী কী চেকআপ?

উত্তর : যেমন ধরুন, রোগীর ব্লাড সুগার রয়েছে কি না, ডায়াবেটিস রয়েছে কি না দেখি। লিপিড প্রোফাইল, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারইড এগুলো পরীক্ষা করতে হয়। এগুলো কিন্তু রুটিন মাফিক করা হয়। আমরা একটি এক্সরে করি, ইসিজি করি।

অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না দেখি। আসলে উচ্চ রক্তচাপের ৯০ ভাগ কারণ জানা যায় না। আমরা বলি ইডিওপ্যাথিক। আর সেকেন্ডারি কিছু কারণ থাকতে পারে। এ জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার পর যদি না হয়, তাহলে আমরা তাকে ওষুধ দেব।

আরো খবর