নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা গেছেন রোববার সকালে। তার মৃত্যুর পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে– ঠিক কী পরিমাণ সম্পত্তি রেখে গেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। আর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি পাচ্ছেনই বা কারা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনে এরশাদের দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শুধু নগদ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে জমানো টাকা, এফডিআর ও ডিপিএস মিলিয়েই তার সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ৯৫ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকা। এর বাইরে গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি, শেয়ারসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদের মূল্য মিলিয়ে আরও প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক ছিলেন এরশাদ। হলফনামায় এরশাদ তার স্ত্রীর হাতে নগদ টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ টাকা।

এর বাইরে স্ত্রীর নামে দুটি ব্যাংক হিসাব থাকার কথা জানিয়েছিলেন এরশাদ, যার একটি হিসাবে ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার ২২ টাকা এবং অপর হিসাবে ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯১ টাকা থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

এছাড়া হলফনামায় এরশাদ তার নিজের হাতে নগদের পরিমাণ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসেবে ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ লাখ টাকা থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

হলফনামায় এরশাদ ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৯ টাকা ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৬ টাকার ঋণ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

এরশাদ তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গত এপ্রিলে নিজের গড়া ট্রাস্টে দান করার কথা জানান। ওই সময় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতি সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, এরশাদ তার ছেলে এরিখ এরশাদ, একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে তার ট্রাস্টের ট্রাস্টি করেছেন। তবে ট্রাস্টে রাখেননি স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ভাই জি এম কাদেরকে।

তবে সে সময় ট্রাস্টি বোর্ডে দান করা সম্পত্তির বিবরণ দেননি এরশাদ। এর আগে জানুয়ারিতেই তিনি নিজের সম্পদের একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিলিবণ্টন করে দেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, গুলশান-২ নম্বরে এরশাদের যে বাড়িটি ছিল তা অনেক আগেই স্ত্রী রওশন এরশাদকে দিয়ে দেন তিনি। আর বারিধারার ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ নামের বাড়িটি ছেলে এরিখ এরশাদের নামে দিয়ে গেছেন। এছাড়া পালিত ছেলে আরমানকে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট দিয়ে গেছেন। রংপুরে থাকা কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াও সেখানকার সব সম্পত্তি এরশাদ তার ভাই জি এম কাদের ও এক ভাতিজাকে দিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির যে প্রধান কার্যালয়টি এবং রংপুর অফিস দলকে দান করে গেছেন এরশাদ। এছাড়া গুলশান-বনানী এলাকায় কয়েকটি মার্কেটে তার নামে থাকা দোকানগুলো কে বা কারা পেয়েছেন বা এগুলো বণ্টন করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি।

জাপা সূত্র জানায়, জীবদ্দশাতেই নিজের সম্পদ বিলিবণ্টনের কাজ শেষ করেন এরশাদ, যাতে তার অবর্তমানে কোনো বিরোধ সৃষ্টি না হয়। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি দল কীভাবে চলবে সেটাও ঠিক করে দিয়ে গেছেন এরশাদ।

গত জানুয়ারিতে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে উত্তরসূরি ঘোষণা করেন এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা মনোনীত করেন। কিন্তু ২২ মার্চ জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করেন। পরের দিন তাকে উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। তখন ধারণা করা হয়েছিল, স্ত্রী রওশন হতে যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের উত্তরসূরি। তবে গত ৫ এপ্রিল জি এম কাদেরকে পুনর্বহাল করেন কো-চেয়ারম্যান পদে। পরের দিন ঘোষণা দেন, ছোট ভাই হবেন তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।

প্রসঙ্গত, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।