নিউ জিল্যান্ডের ৪৭ বছরের স্টেড নয়ের দশকে কাজ করতেন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবে। লর্ডসের মাঠ কর্মী হিসেবে। তখন তাঁর বয়স ১৮। স্টেডের কাজের মধ্যে ছিল, স্কোরশিটের কপি বিলি, জানালার কাঁচ পরিষ্কার করা। সেখান থেকে লর্ডসের ব্যালকনিতে আজ কিউয়িদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সত্যি করতে বসবেন তিনি।

এই আমার দেশ ডেস্ক: জীবন আবার আজ নতুন ভাবে ধরা দিচ্ছে ওঁদের কাছে। এক জনের কাছে সেই প্রথম জীবনের কর্মক্ষেত্রে লর্ডসেই কোচ হিসেবে নিজেকে পাকাপাকি প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। অন্য জনের কাছে আট বছর আগে অধরা বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখার সুযোগ। প্রথম জন নিউ জিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টেড। পরের জন ইংল্যান্ডের কোচ ট্রেভর বেলিস।

নিউ জিল্যান্ডের ৪৭ বছরের স্টেড নয়ের দশকে কাজ করতেন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবে। লর্ডসের মাঠ কর্মী হিসেবে। তখন তাঁর বয়স ১৮। স্টেডের কাজের মধ্যে ছিল, স্কোরশিটের কপি বিলি, জানালার কাঁচ পরিষ্কার করা। সেখান থেকে লর্ডসের ব্যালকনিতে আজ কিউয়িদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সত্যি করতে বসবেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহের মধ্যে সেই অতীত ভুলছেন না স্টেড। তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, ‘১৯৯০ সালে আমি এই লর্ডসের মাঠকর্মী ছিলাম। আমার কাজের মধ্যে ছিল জানালার গ্লাস পরিষ্কার করা, স্কোরকার্ড বিলি করা।’

নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তাঁর নামের পিছনে রয়েছে মাত্র পাঁচটি টেস্ট। মূলত ব্যাটসম্যানই ছিলেন। তবে একশোর বেশি প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেন। স্টেড নিজে মনে করেন, ছোটবেলায় লর্ডসে কাজ করার সময় বিখ্যাত ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখতে পাওয়াটা তাঁর ক্রিকেট জীবনের বড় শিক্ষা। সেই শিক্ষা তাঁর কোচিং জীবনেও কাজে লেগেছে। আজ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কিউয়িদের তাতাচ্ছেন নিজস্ব কায়দায়। লর্ডসে বসেই সে মাঠের একদা মাঠকর্মী স্টেডের বক্তব্য, ‘আর তো মাত্র একটা ম্যাচ। অঙ্কের হিসেবে আমাদের জেতার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের যা ফর্ম, তাতে ওরাই ফেভারিট। কিন্তু ফাইনালে যখন উঠে পড়েছি, তখন জেতার জন্য ঝাঁপাবোই।’

বেলিসের ঘরের মাঠ লর্ডস। এখানে অনেক স্মৃতি আছে তাঁর। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি মোটেও সুখের নয়। ২০১১ সালে ওয়াংখেড়েতে তিনি ছিলেন শ্রীলঙ্কার কোচ। মহেন্দ্র সিং ধোনির ছক্কায় ওয়াংখেড়ের ব্যালকনিতে ভারতের কোচ গ্যারি কার্স্টেন যখন উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন, ফ্যালফ্যাল চোখে তা দেখেছিলেন বেলিস। ভারতের মাটিতে কেকেআর কোচ হয়ে পরে অবশ্য আইপিএল জেতার স্বাদ পেয়েছেন। ইংল্যান্ডকে জিতিয়েছেন ঐতিহ্যের অ্যাসেজ সিরিজও। কিন্তু ব্রিটিশ বেলিসের কাছে বিশ্বকাপ এখনও অধরা মাধুরীই।
আজ ফেভারিট হয়ে ফাইনাল খেলতে নামার আগে তাই বেলিস একটু বেশিই সতর্ক। বলছেন, ‘আমরা কিন্তু এখনও কিছুই জিতিনি। সে জন্য মাঠের বাইরে থেকে ভালো-মন্দ কোনও কিছুই আমরা কানে নিতে চাই না। কারণ আমাদের এখনও কাজ শেষ হয়নি। এখনও একটা বড় ম্যাচ বাকি রয়েছে।’
এতেই শেষ নয়। বেইলির সংযোজন, ‘ম্যাচ শেষে আমরা এই ব্যাপারটা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করেছি। আমরা উপলব্ধি করেছি যে, এখনও কাজ শেষ হয়নি। তবে শেষ চার বছরে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলে এসেছি সেভাবেই খেলতে হবে আমাদের। নিজেদের প্রসেসটা ফলো করে খেলে যেতে হবে।’ ২০১৫ সালে চরম ব্যর্থতা থেকে আজকের ফাইনালে ওঠার কথাও উঠে এসেছে বেলিসের গলায়, ‘২০১৯ বিশ্বকাপ জেতার জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন ভালো লাগছে যে, আমরা সেই পরিকল্পনা সার্থক করার আর একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছি।’ সোজা কথায়, দুই কোচের স্মৃতি মেখেই আজ নতুন বিশ্বকাপ ফাইনাল পেতে চলেছে লর্ডসের বিশ্বকাপ।