নিজস্ব প্রতিবেদক : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ২০ জুলাইয়ের পর ধাপে ধাপে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী বরাবর সাময়িক বহিষ্কারাদেশের চিঠি প্রেরণ করবে দলটি।

একই সঙ্গে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে পাঠানো হচ্ছে ‘শোকজ’ নোটিশ। এছাড়া সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শতাধিক নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।

তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হবে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০ জুলাই আমাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা আছে।

সেই সভায় অভিযুক্ত নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজ নোটিশ দেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে। সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের। এসব বিদ্রোহীর শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।

বহিস্কৃতদের তালিকায় খুলনা বিভাগের এসব নেতাদের মধ্যে রয়েছেন
খুলনার পাইকগাছায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মোড়ল রশিদুজ্জামান, তেরোখাদা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম, দিঘলিয়া উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শেখ মারুফুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মল্লিক মহিউদ্দিন, দাকোপ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনসুর আলী খান, রূপসায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ আকবর আলী।

যশোরের চৌগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, বাঘারপাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নাজমুল ইসলাম কাজল, মনিরামপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন লাভলু, ঝিকরগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, কেশবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম।

মাগুরার শালিখায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, শ্রীপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল গনি শাহিন।

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোতাহার হোসেন মোল্লা, মোরেলগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান বাবুল।

নড়াইল জেলার কালিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম হারুনার রশীদ, লোহাগড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিকদার আবদুল হান্নান রুনু, সাধারণ সম্পাদক ফায়জুর আমীর লিটু।

ঝিনাইদহ সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জেএম রশিদুল আলম, শৈলকুপায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সোনা সিকদার, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

চুয়াডাঙ্গা সদরে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, আলমডাঙ্গায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব হোসেন, দামুড়হুদায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আলী মনসুর বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কুদ্দুস, জীবননগরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, সহসভাপতি নজরুল মল্লিক।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জয়নাল আবেদীন। সাতক্ষীরা সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ, তালা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএম ফজলুল হক, কলারোয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু, কালীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেহেদি হাসান সুমন, আশাশুনিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পিন্টু, দেবহাটা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা শ্যামনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জিএম ওসমান গনি।

মেহেরপুর জেলার গাংনীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নুরজাহান বেগম, আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।