রুদ্র রাসেল চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে মধ্যরাতে এক কিশোরীকে অপহরণচেষ্টাকালে ওই কিশোরীর চিৎকারে তার পঙ্গু নানা ও গৃহকর্তা মামা অপহরণকারীকে বাধা দিলে তাঁদের নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গৃহকর্তা মামার মৃত্যু হয়। পঙ্গু নানা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এদিকে, ওই অপহরণকারীকে গ্রামবাসী গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোররাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কলিমুল্লাহ, সদর ওসির ঘটনাস্থল পরিদর্শন

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ও পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবীর সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কৃষক হাসানুজ্জামানের বাড়িতে তাঁর ১৩ বছরের কিশোরী ভাগনি সুমাইয়াকে অপহরণচেষ্টাকালে সুমাইয়া চিৎকার করে ওঠে।

নানা হামিদুলকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে

সুমাইয়া চিৎকার করে উঠলে অপহরণকারী সুমাইয়ার বাঁ হাতে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর সুমাইয়া চিৎকারে তার পঙ্গু নানা জেগে উঠে বাধা দিতে এলে অপহরণকারী তার নানা হামিদুল ইসলামকে (৫০) ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

এ সময় হামিদুলের ছেলে সুমাইয়ার মামা হাসানুজ্জামান (৩০) জেগে উঠে এগিয়ে এলে অপহরণকারী তাঁকেও ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কৃষক হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে অপহরণচেষ্টাকারীকে আটক করে গণধোলাই দেন এবং হামিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।


অপহরণকারীর নাম আকবর আলী বলে জানা গেছে। তিনি ওই এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর ঠিকানা জানা যায়নি। তবে অনেকে জানান, এক সময় আমিরপুর গ্রামে আকবর আলী বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। এলাকায় তিনি লম্পট বলেও পরিচিত।


এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে হাসানুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়। আহত হামিদুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

গনধোলাইয়ে অপহরণকারী আকবর নিহত

উপর্যুপরি কোপের ফলে হাসানুজ্জামানের শরীরে অসংখ্যা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। হাসানুজ্জামানের বাবা হামিদুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হাসানুজ্জামনের ভাগনি সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।চ


এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে মধ্যরাতে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আকবর আলী নামের একজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ওই কিশোরীর নানা হামিদুল ইসলাম গুরতর আহত ও মামা হাসানুজ্জামান নিহত হয়েছেন।