অনলাইন ডেস্ক: দাউদাউ করে জ্বলছে পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত অ্যামাজনের জঙ্গল। এ খবর যখন সারাবিশ্বে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তখন বিশাল এলাকাজুড়ে জঙ্গল গড়ে তুলে আলোচনায় উঠে এলেন ভারতের মণিপুরের বাসিন্দা লোইয়া।

গত ১৮ বছর ধরে পরম যত্নে তিনি তৈরি করে চলেছেন ৩০০ একর জমির উপর এক সবুজ বিপ্লব।তার পুরো নাম মোইরাংথেম লোইয়া। ৪৫ বছর বয়সী মণিপুরের পশ্চিম ইমফলের বাসিন্দা লোইয়া নিরলসভাবে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন। বনভূমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে এ যেন তার এক যুদ্ধ।

লোইয়া তার ওই বনাঞ্চলের নাম দিয়েছেন পুনশিলক বা স্প্রিং অব লাইফ। পরিবেশ বাঁচাতে এবং দূষণের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন তিনি।

ছোটবেলায় প্রায়ই মণিপুরের সেনাপতি জেলার কৌব্রু চুড়ায় অবস্থিত সবুজের আস্তানায় যেতেন লোইয়া। কিন্ত ২০০০ সালে কলেজ শেষ করে যখন আবার ছোটবেলার স্মৃতির টানে ওই জায়গায় ফিরে যান, তখনই পান এক বড় ধাক্কা। সবুজের কোনও চিহ্ন খুঁজে পাননি তিনি। তখন লোইয়া সিদ্ধান্ত নেন, প্রকৃতিকে তার গৌরব আবার ফিরিয়ে দেবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। 

খোঁজা শুরু করেন এমন এক জায়গা যেখানে গাছ লাগাতে পারবেন। সাল ২০০২। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে নিয়ে যান মারু লাংগোল পাড়াহের কাছে। সেখানেই শুরু হয় তার পথ চলা। 

মেডিকাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ ছেড়ে শুরু করেন গাছ লাগানো। একে একে বাঁশ, ওক, ফিকাস, ম্যাগনোলিয়া, টিক, কাঁঠালের মতো নানা গাছ লাগান তিনি।

২০০৩ সালে তার পাশে এসে দাঁড়ান আরও কিছু বন্ধু। তৈরি করেন Wildlife And Habitat Protection Society (WAHPS)। এই সংগঠনই এখন পুনশিলকের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।