নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীরের প্রতিটি কোষের মত চুলেরও নির্দিষ্ট আয়ু থাকে। প্রকৃতির এই নিয়মে প্রতিদিনই কিছু না কিছু চুল ঝরে যায়, আবার নতুন চুলও গজায়। এর মাঝেই আঁচড়ালে রাশি রাশি চুল উঠে আসে অনেকের, শ্যাম্পু করলেও একই অবস্থা। এই সমস্যা শুধু আপনার একার নয়, পৃথিবীর প্রতি চারজনের একজন চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। 

যে হারে চুল ঝরে সেই হারে যদি চুল কম গজায় তখনই সমস্যাটা দেখা দেয়। একজন মানুষের দিনে ১০০টা পর্যন্ত চুল ঝরে যেতে পারে। চুল গজানো থেকে ঝরে যাবার মধ্যে তিনটি পর্যায়ে আছে। অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন ও টেলোজেন।

চুল গজানোর পর বেড়ে ওঠে অ্যানাজেন ফেজে। আর ক্যাটাজেন অবস্থায় চুল আর বাড়ে না। টেলোজেন পর্যায়ে চুল ঝরে যায়। চুল কেন ঝরে এবং কিভাবে এর প্রতিকার করা যায় এ বিষয়ে চিকিৎসকরা যা বলেন- 

* চুল পড়ার অন্যতম কারণ খুসকি। অনেক সময় সোরিয়াসিস নামক ত্বকের অসুখে খুস্কির মতই মাথায় নরম চামড়া উঠে যায়। এ ক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহারে করা উচিত।

* একসঙ্গে অনেক চুল ঝরে যেতে শুরু করলে কয়েকটা টেস্ট করাতে হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করানো দরকার। অ্যানিমিয়া থাকলে চুল পড়া বেড়ে যায়। আবার থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলেও চুল ওঠে।

* এই সমস্যায় কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করানো দরকার। অনেকের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস ও ভিটামিনের অভাবেও চুল পড়ে যায়। তাই ডিম, মাছ, দুধের সঙ্গে সঙ্গে ফল ও সবজি খেতে হবে।

* নিয়মিত শ্যম্পুর পাশাপাশি তেল দিয়ে চুলের গোড়া ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজের ফলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে চুলের স্বাস্থ্য ভাল হবে।

* স্ট্রেস চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসিক সমস্যা থেকে দূরে থাকুন।  প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

* আবার সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণে খুব মাথা চুলকায়, এর ফলেও চুল পড়ে যায়। ওষুধ ব্যবহারে এই সমস্যার সমাধান হয়।

* মেয়েদের অন্য কয়েকটি কারণে চুল পড়ে যায়। মা হওয়ার পরে ও মেনোপজ হলে হরমোনের তারতম্যের ফলে চুল ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

* কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও চুল ঝরে যায়।

* তবে যে কারণেই চুল পড়ুক না কেন পার্লারে যাওয়ার আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। নিয়মিত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করে ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন।